খবর লাইভ : মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অবশেষে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে। সংঘর্ষবিরতি কার্যকর হয়েছে দুই দেশের মধ্যে চলা তীব্র লড়াইয়ের পর। কিন্তু যুদ্ধ থামলেও থেমে নেই উত্তেজনা। এবার নতুন করে উত্তেজনার কেন্দ্রে পাকিস্তান।
সম্প্রতি ইজরায়েলের প্রাক্তন উপ-প্রতিরক্ষামন্ত্রী মেইর মাসরি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘এক্স’-এ একটি বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি লিখেছেন, “আমরা ইরান পর্যন্ত পৌঁছে গিয়েছি। এবার আমাদের লক্ষ্য পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্র।” মাসরির এই মন্তব্য ঘিরে পাকিস্তানের রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। দ্রুত নিরাপত্তা সংক্রান্ত জরুরি বৈঠক করেন প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ।
বিশ্লেষকদের মতে, ইজরায়েলের এই উদ্বেগ একেবারে অমূলক নয়। পাকিস্তানের হাতে থাকা ইসলামিক পারমাণবিক অস্ত্রকে তেল আভিভ সব সময়েই ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ বলে বিবেচনা করে এসেছে। ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুও আগে বহুবার বলেছেন, “ইরান ও পাকিস্তানের মতো দেশগুলি সন্ত্রাসবাদকে মদত দেয়। এই রাষ্ট্রগুলির হাতে পরমাণু অস্ত্র থাকা গোটা বিশ্বের নিরাপত্তার পক্ষে হুমকি।”
১৯৭১ সালে ভারতের সঙ্গে যুদ্ধে পরাজয়ের পর পাকিস্তান জোরকদমে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির পথে হাঁটে। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলি ভুট্টো তখন ‘ইসলামিক বোমা’ ধারণার কথা তোলেন। তার বক্তব্য ছিল, “এই অস্ত্র শুধুমাত্র পাকিস্তানের নয়, বরং পুরো ইসলামি বিশ্বের সম্পদ।” সেই সময় থেকেই ইজরায়েল বিষয়টিকে গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দেখে আসছে।
ইতিহাস বলছে, আশির দশকে ইজরায়েলের গুপ্তচর সংস্থা মোসাদ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে মিলে পাকিস্তানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে হামলার পরিকল্পনা করেছিল। যদিও শেষ মুহূর্তে সেই পরিকল্পনা বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমানে পাকিস্তানের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের বড় অংশই পাঞ্জাব ও বালোচিস্তানের সেনাঘাঁটিতে সংরক্ষিত বলে গোয়েন্দা সূত্রে জানা গেছে। ফলে ইজরায়েল যদি হামলা চালাতে চায়, তাহলে তার লক্ষ্য নির্ধারণ তুলনামূলকভাবে সহজ হতে পারে।
বিশ্লেষকদের মতে, মাসরির মন্তব্য কেবল একটি ব্যক্তিগত মত নয় বরং এর পেছনে রয়েছে একটি সুদূরপ্রসারী কৌশলগত বার্তা। পাকিস্তান এখন দ্বিধার মধ্যে রয়েছে। একদিকে দেশের নিরাপত্তা, অন্যদিকে আন্তর্জাতিক চাপে পড়ার শঙ্কা।




