খবর লাইভ : ভারতের মহাকাশ অভিযানে যুক্ত হল এক নতুন অধ্যায়। ভারতীয় বায়ুসেনার গ্রুপ ক্যাপ্টেন শুভাংশু শুক্লা তিন সহযাত্রীসহ সফলভাবে পৌঁছে গিয়েছেন আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্র (আইএসএস)-এ। এই প্রথম কোনও ভারতীয় নভোশ্চর পা রাখলেন আইএসএস-এ, যা রাকেশ শর্মার পর মহাকাশ অভিযানে ভারতের জন্য এক ঐতিহাসিক মুহূর্ত।
বুধবার দুপুর ১২টা ১ মিনিটে (ভারতীয় সময়) আমেরিকার ফ্লোরিডার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে স্পেস এক্সের ফ্যালকন ৯ রকেটে যাত্রা শুরু করেন শুভাংশুরা। প্রায় ২৮ ঘণ্টার যাত্রা শেষে বৃহস্পতিবার বিকেল ৪টা নাগাদ তাঁরা পৌঁছান আইএসএস-এ। শুভাংশুর সঙ্গে ছিলেন পোল্যান্ডের স্লায়োস উজ়নানস্কি-উইসনিউস্কি, হাঙ্গেরির টিবর কাপু এবং আমেরিকার পেগি হুইটসন।
আইএসএস-এ পৌঁছেই শুভাগত জানায় সেখানে অপেক্ষমান সাতজন মহাকাশচারী। করমর্দন আর আলিঙ্গনে স্বাগত জানানো হয় নতুন অতিথিদের। পরিবেশটা ছিল আবেগঘন এবং উৎসবমুখর। সামাজিক মাধ্যমে ইতিমধ্যেই ছড়িয়ে পড়েছে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তের ছবি ও ভিডিও, যা প্রকাশ করেছে ইলন মাস্কের সংস্থা স্পেস এক্স।
আইএসএস থেকে এক বার্তায় শুভাংশু জানান, “মাথাটা একটু ঝিমঝিম করছে, কিন্তু এটা একদমই বড় বিষয় নয়। আমরা আগামী ১৪ দিন এখানে যে গবেষণা করব, সেটা আমাদের জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। তিরঙ্গা কাঁধে নিয়ে মহাকাশে থাকা আমার জীবনের গর্বের মুহূর্ত।”
লখনউয়ের এই ছেলে আরও বলেন, “এটা শুধু আমার একার নয়, গোটা দেশের কৃতিত্ব। তিরঙ্গা দেখে মনে হয়, আমি একা নই গোটা ভারত আমার সঙ্গে আছে।”
এই ‘অ্যাক্সিয়ম-৪’ মিশনটি পরিচালিত হচ্ছে নাসার সম্মতিতে এবং স্পেস এক্সের ড্রাগন যান ব্যবহার করে। এই ১৪ দিনের অভিযানে মোট ৬০টির বেশি বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা চালাবেন তাঁরা, যার মধ্যে মানবদেহের উপর মহাকাশের প্রভাব, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহার এবং নানা ঔষধ সংক্রান্ত গবেষণাও থাকবে।
এদিকে, শুভাংশুর মহাকাশ যাত্রার সরাসরি সম্প্রচার দেখা হয় তাঁর স্কুলে, যেখানে উপস্থিত ছিলেন তাঁর বাবা-মা, আত্মীয়স্বজন ও শিক্ষকরা। গোটা দেশ জুড়ে গর্বের ঢেউ বইছে এই সফল অভিযানের জন্য।
শুভাংশুর এই কীর্তি আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য যেমন অনুপ্রেরণা, তেমনই ভারতীয় মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যতের পথও আরও উজ্জ্বল করে তুলল।




