International Special News Special Reports

ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের দামামায় আরব মরুতে মুদ্রার মূল্যে ধস, উদ্বেগে প্রবাসী ভারতীয়রা

0
(0)

খবর লাইভ : হঠাৎ করেই মধ্যপ্রাচ্যে ভারতীয় টাকার বিপর্যয়জনিত দর পতন দেখা দিয়েছে, যা অনাবাসী ভারতীয়দের মধ্যে ব্যাপক উদ্বেগ ও তৎপরতা সৃষ্টি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনার ফলে এই আর্থিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে, যার প্রভাব পড়েছে বিদেশি মুদ্রা বিনিময় হারের উপর।

‘গাল্ফ নিউজ’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে এক দিরহামের বিনিময়ে পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ২৪ ভারতীয় টাকা। এই হার আরও কমতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই চিত্র সৌদি আরবেও। ফলে রেমিট্যান্স পাঠাতে হুড়োহুড়ি শুরু করে দিয়েছেন প্রবাসীরা।

আমিরশাহির একটি ফরেন এক্সচেঞ্জ সেন্টারের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, ‘‘টাকার দামের ওঠানামা নিয়ে প্রবাসীদের মধ্যে দারুণ উত্তেজনা কাজ করছে। বেশিরভাগই এখনই টাকা দেশে পাঠিয়ে দিতে চাইছেন লোকসান এড়াতে।’’

প্রতিবছর জুন মাসে সাধারণত মুদ্রা বিনিময়ের চাহিদা কিছুটা কমে যায়, কারণ এই সময় প্রবাসীরা ছুটিতে থাকেন অথবা ভ্রমণে যান। কিন্তু এ বছর সেই ধারা ভাঙছে। বিনিময় কেন্দ্রগুলিতে ভিড় বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, ইরান-ইজরায়েল সংঘাত এই অস্থিরতার মূল কারণ। ২২ জুন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের পক্ষে থেকে ইরানের তিনটি পরমাণু স্থাপনায় বিমান হামলা চালায়। এর পরেই ইরান পাল্টা হামলার হুমকি দেয়। এই পরিস্থিতি তেল রফতানি নির্ভর মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতিতে চাপ পড়েছে, যার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে মুদ্রাবাজারে।

এদিকে বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নিরাপদ সম্পদ হিসেবে সোনার প্রতি ঝোঁক বাড়ছে। ডলারের দামও নিম্নমুখী থাকায় লগ্নিকারীরা বিকল্প নিরাপদ পন্থা খুঁজছেন। এতে টাকার আরও দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, এই আর্থিক অনিশ্চয়তা যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে জুলাই মাসেও টাকার দর আরও পড়তে পারে। যদিও কেউই চান না মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত তীব্র হোক। কারণ, তার প্রভাব শুধু আঞ্চলিক নয়, বিশ্বজুড়ে অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ইহুদি এবং শিয়া মুলুকের মধ্যে সংঘর্ষ তীব্র হলে ফের বিশ্ব জুড়ে বাড়বে সোনা কেনার প্রবণতা। কারণ, লগ্নিকারীদের কাছে নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসাবে ‘হলুদ ধাতু’র আলাদা গুরুত্ব রয়েছে। একটা সময়ে ডলারের উপরেও ভরসা করতেন তাঁরা। কিন্তু বর্তমানে মার্কিন মুদ্রার দর নিম্নমুখী থাকায় সেখান থেকে কিছুটা মুখ ফিরিয়েছেন বিনিয়োগকারীরা। সে ক্ষেত্রে নিম্নমুখী হতে পারে আরব দুনিয়ায় মুদ্রার মূল্য।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *