খবর লাইভ : আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই উদ্ধার হয়েছিল এয়ার ইন্ডিয়ার বিধ্বস্ত বিমানটির ‘ব্ল্যাক বক্স’। প্রাথমিকভাবে জানানো হয়েছিল, সেটি ক্ষতিগ্রস্ত এবং তথ্য বিশ্লেষণের জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পাঠানো হতে পারে। তবে সেই সম্ভাবনাকে নাকচ করলেন ভারতের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রাম মোহন নাইডু।
মন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, ব্ল্যাক বক্সটি এখনও ভারতেই রয়েছে এবং আপাতত বিদেশে পাঠানোর কোনও পরিকল্পনা নেই। তাঁর বক্তব্য, “এই মুহূর্তে ব্ল্যাক বক্স আমেরিকায় পাঠানোর প্রয়োজন নেই। বিমান দুর্ঘটনা তদন্তকারী সংস্থা এয়ারক্রাফ্ট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB)—ইতিমধ্যে এটি পরীক্ষা করছে। বিদেশে পাঠানোর যে খবর রটেছে, তা তথ্যভিত্তিক নয়।”
উল্লেখ্য, ব্ল্যাক বক্স বলতে মূলত দুটি যন্ত্র বোঝানো হয় ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) এবং ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (FDR)। এই দুটি যন্ত্র বিমানের শেষ মুহূর্তের প্রযুক্তিগত তথ্য ও ককপিটে চালক ও কন্ট্রোল টাওয়ারের কথোপকথন রেকর্ড করে রাখে। যে কোনও বিমান দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনে এই ব্ল্যাক বক্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তবে এখনও পর্যন্ত এই ব্ল্যাক বক্স থেকে দুর্ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ জানা যায়নি। কেউ ধারণা করছেন যান্ত্রিক ত্রুটি, কেউ বা মনে করছেন মানুষের ভুল। আবার কারও মতে, পাখির ধাক্কায় এই বিপর্যয় ঘটেছে। তাই সকলের দৃষ্টি এখন এই ব্ল্যাক বক্স থেকে প্রাপ্ত তথ্যের দিকেই।
প্রসঙ্গত, ১২ জুন, আমেদাবাদ থেকে লন্ডনগামী এয়ার ইন্ডিয়ার বোয়িং ৭৮৭-৮ ড্রিমলাইনারটি ওড়ার কিছুক্ষণ পরই ভেঙে পড়ে। বিমানটি আমেরিকায় নির্মিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক নিয়ম অনুযায়ী তদন্তে যুক্ত হয়েছে মার্কিন ন্যাশনাল ট্রান্সপোর্টেশন সেফটি বোর্ড (NTSB) ও বোয়িং সংস্থা। তাদের সহায়তায় তদন্তের গতি বাড়ার আশা করা হচ্ছে।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন ২৪১ জন যাত্রী, আহত হয়েছেন আরও অনেকে। বিমানটি একটি জুনিয়র ডাক্তারদের হস্টেলের উপর ভেঙে পড়ায় হোস্টেলেও প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন। গোটা দেশ এখনও শোকস্তব্ধ। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে এবং ভবিষ্যতে এমন ঘটনা এড়াতে ব্ল্যাক বক্স বিশ্লেষণ অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।



