খবর লাইভ : ভয়ঙ্কর বিমান দুর্ঘটনার দৃশ্য সিনেমাকেও হার মানায়। পাঁচ মিনিট আগে যে মানুষগুলো ঝলমলে মন নিয়ে বিমানে চেপে বসেছিল, পাঁচ মিনিট পরে তাদের ঝলসানো দেহ, কাটা মুন্ডু, হাত-পা ছিন্নভিন্ন অবস্থায় মিলল মেঘানি নগরের বিজে মেডিকেল কলেজের ইউজি হস্টেলের মেসের আশপাশের চত্বরে! জানা গিয়েছে, টেক অফের মাত্র পাঁচ মিনিট পরেই মেডিকেল কলেজের হস্টেলের ছাদে আছড়ে পড়ে বিমানটি। মুহূর্তে ভয়ংকর বিস্ফোরণ হয়। এই কারণেই বিমানে থাকা ২৪১ জনেরই মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আমেদাবাদ প্রশাসন। কীভাবে বিমানবন্দর থেকে যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যে লোকালয়ে ভেঙে পড়ে বিমানটি, সেই ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে।
দুর্ঘটনার মুহূর্তের একটি ২৪ সেকেন্ডের ভাইরাল হয়, যা মোবাইল ফোনে তুলেছিল ১৭ বছর বয়সী আরিয়ান নামে এক কিশোর। তিনি জানান, বিমানবন্দর সংলগ্ন এলাকায় বসবাসের কারণে প্রতিদিনই বিমান ওঠানামা দেখতে পেতেন। বন্ধুদের দেখানোর উদ্দেশ্যে তিনি বিমানের ওড়ার ভিডিও করেছিলেন, কিন্তু দুর্ঘটনার মুহূর্ত ক্যামেরাবন্দি হয়ে যাবে, তা তিনি ভাবেননি।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর পুলিশ ও অপরাধদমন শাখা আরিয়ানের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বয়ান রেকর্ড করেছে। তবে বিভিন্ন সূত্রে দাবি করা হয়েছিল যে, ভিডিও তোলার কারণে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কিশোরকে গ্রেফতার করা হয়নি, বরং প্রথম প্রত্যক্ষদর্শী হিসেবে তার বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
দুর্ঘটনার পরপরই দমকল বাহিনী, পুলিশ ও উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুর্ঘটনাস্থলের আশপাশের রাস্তা ঘিরে রাখা হয়। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী ভূপেন্দ্র পটেলকে ফোন করে রাজ্য সরকারকে প্রয়োজনীয় সহায়তা করার আশ্বাস দেন।
আরিয়ানের ভিডিওটি দুর্ঘটনার ভয়াবহতা বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়লেও, তার উদ্দেশ্য ছিল শুধুমাত্র বন্ধুদের বিমানের ওড়া দেখানো। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তথ্যের সঠিকতা যাচাইয়ের গুরুত্ব পুনরায় প্রমাণিত করেছে। যদিও সেই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি খবর লাইভ।
সে দিনের ঘটনা এবং সেই মুহূর্তের কথা স্মরণ করে শিউরে ওঠে আরিয়ান। সে বলে, ‘‘আমার মোবাইলে ২৪ সেকেন্ডের ভিডিয়ো রয়েছে। খুব ভয় পাচ্ছি। আমার বোনকেই প্রথম ভিডিয়োটি দেখিয়েছিলাম। কারণ, সেই সময় ওই দৃশ্য দেখে ঘাবড়ে গিয়েছিলাম।’’ আরিয়ানের বোনও তার ভাইয়ের জন্য উদ্বিগ্ন। সে বলে, ‘‘দাদা আমাকে ভিডিয়োটি দেখিয়েছিল। তার পর বলে এই এলাকায় থাকতে চায় না। কারণ, যে দুর্ঘটনা সে চোখের সামনে দেখেছে, যে কোনও সময় তাদেরও বিপদ ঘটতে পারে পরে জানিয়েছিল। খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল দাদা। ওই ঘটনা দেখার পর ঠিকমতো কথা বলতে পারছিল না। দু’দিন ঠিকমতো খেতে বা ঘুমোতেও পারেনি।’



