খবর লাইভ : অন্যায়কে যে প্রশ্রয় দেয় একটা সময় সেই অন্যায়ের কাছেই তাকে পুড়ে ছাই হয়ে যেতে হয়। হাওড়ার পেঁড়ো থানার কয়েকজন অফিসারের ক্ষেত্রে এখন যেন এই কথাটাই প্রযোজ্য। গত দুদিন আগে পেঁড়ো থানার বসন্তপুর বাজারে এক সিভিক ভলেন্টিয়ারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে দেখা যায়। এমনকি তাঁকে কান ধরে উঠবস করানোও হয়। সেই ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে সমাজ মাধ্যমে। ইতিমধ্যেই ওই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে দুজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। পেঁড়ো থানার ওসি তন্ময় কর্মকারকেও ক্লোজ করা হয়েছে। যারা সিভিক ভলেন্টিয়ারকে মারধর করেছে তারা এলাকায় যেমন তৃণমূল নেতা বা কর্মী হিসেবে পরিচিত তেমনই তারা ওই এলাকায় মাটি মাফিয়া হিসেবেও পরিচিত। কারণ দীর্ঘদিন ধরেই পেঁড়ো থানার বসন্তপুর, আলতারা এলাকায় পুলিশের মদতে সক্রিয় মাটি মাফিয়ারা। এলাকার লোকজন প্রতিবাদ করলেও পুলিশের কোনও হেলদোল ছিল না সানি, রবিয়াল, লাল্টু, মুসিদের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ গ্রহণ করার। পুলিশকে টাকা দিয়েই এই মাফিয়ারা দিনের পর দিন বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ করে গেছে। শুধু তাই নয়, ওই সমস্ত এলাকার সাধারণ মানুষের চরম ক্ষতি করে তারা মাটি কাটলেও পুলিশ ঠুঁটো জগন্নাথ থেকেছে। ফলে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে ওই মাটি মাফিয়ারা। ওই মাটি মাফিয়াদেরই একাংশ সিভিক ভলেন্টিয়ারকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করার পর্যন্ত সাহস দেখিয়েছে। সরাসরি ওই থানার সদ্য ক্লোজ হওয়া ওসির পাশাপাশি ডাক মাস্টারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
পেঁড়ো থানার ডাক মাস্টারের মতোই হুগলির ধনিয়াখালি থানার ডাক মাস্টার অদিতি ঘোষের বিরুদ্ধেও মাটি মাফিয়াদের প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। অনেক মাটি মাফিয়ায় সরকারকে ফাঁকি দিয়ে বেআইনি কাজ করলেও ডাক মাস্টারের সহায়তায় পার পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ। অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন পুলিশের ভূমিকা নিয়ে। রাজ্য পুলিশের এক কর্তা নিচু স্তরের এই সমস্ত পুলিশ কর্মীদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ গ্রহণ করার আশ্বাস দিয়েছেন।




