District

তৃণমূল নেতা পিন্টু মান্নার হুমকি

0
(0)

খবর লাইভ : গরু পাচারকারী ও কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে সিবিআই জোরদার তল্লাশি শুরু করেছে। কয়লা মাফিয়া অনুপ মাঝি ওরফে লালা এবং গরু পাচারের মূল পান্ডা এনামুল হকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা। ইতিমধ্যে বেশ কয়েকজন সরকারি অফিসারকেও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে এই পাচারকারীদের অর্থের বিনিময়ে মদত দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এরই মাঝে ভোটের আগে তৃণমূলের মাথাব্যথার অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে মাটি পাচারের বিষয়টি। হুগলির বাকসা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকায় মাটি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে খবর করায় ‘খবর লাইভ’-এর সাংবাদিককে হুমকির মুখে পড়তে হল স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার। বাকসা ও জঙ্গলপাড়া এলাকার বাসিন্দারা বেআইনি মাটি কাটার বিরুদ্ধে প্রশাসনের বিভিন্ন মহলে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। সেই খবর ‘খবর লাইভ’ করায় এবার পিন্টু মান্না নামে এক ব্যক্তি নিজেকে তৃণমূল নেতা হিসেবে পরিচয় দিয়ে দেখে নেওয়ার হুমকি দিলেন। খবরের কারণে বাকসা পঞ্চায়েতের প্রধান সীমা সী-কে বেশ কয়েকবার ফোন করেছিলেন আমাদের সাংবাদিক। আর এটাই হয়েছে তাঁর অন্যায়। কেন প্রধানকে ফোন করা হচ্ছে এই অভিযোগ তুলে পিন্টু নিজেকে বীরভূমের জেলা সভাপতি অনুব্রত মন্ডলের সঙ্গে তুলনা করেন। তিনি বলেন, ‘বাকসার অনুব্রত মন্ডল হলাম আমি। প্রধানকে ফোন করছেন কেন? আর ফোন করবেন না। যারা মাটি কাটছে তাদের কাটতে দিন। আপনার কেন এত মাথাব্যথা?’
তবে সীমা সী পিন্টুকে চেনেন না বলেই জানিয়েছেন। আদৌ পিন্টু মান্না তৃণমূলের নেতা কিনা তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন তিনি। সীমা বলেন, ‘এখানে অনেক পিন্টু মান্না আছে। তবে কোন পিন্টু আপনাকে ফোন করেছে তা জানি না। আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে আমি সে বিষয়ে কাউকে কিছু বলিনি।’ এবিষয়ে হুগলি জেলার এক দাপুটে তৃণমূল নেতা বলেন, ‘আমরা খোঁজ নিয়ে দেখেছি, ওই এলাকায় বেশ কয়েকজন মাটি মাফিয়া দৌরাত্ম্য চালাচ্ছে। তারা নিজেদের তৃণমূল নেতা বলে পরিচয় দিচ্ছে বলে আমাদের কাছে খবর এসেছে। প্রশাসনকে বলব অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে।’ এদিকে এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, পিন্টু মান্না নিজেও বেআইনি কাজের সঙ্গে জড়িত। তাঁর কেবল মাটি মাফিয়াদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই,
তিনি নিজেও বেআইনি কাজে যুক্ত। যার ফলে গত লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল এই এলাকায় খারাপ ফল করেছিল। রাজ্য বিজেপির সাধারণ সম্পাদক সায়ন্তন বসু বলেন, ‘তৃণমূল জমানায় সমস্ত বেআইনি কাজ রমরমিয়ে চলছে। তা সে গরু পাচারই হোক বা বালি পাচারই হোক বা কয়লা পাচারই হোক বা মাটি পাচার হোক। ওই এলাকার মানুষজন খুব অসহায় হয়ে পড়েছেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। এবারে বিধানসভা ভোটে ওখানকার মানুষজন তৃণমূলকে ভোট দেবে না বলেই আমরা খবর পাচ্ছি।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *