খবর লাইভ : রাজ্যসভায় গুলাম নবি আজাদের উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়ে জোর জল্পনা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনেক নামই উঠে আসছে। তবে এখনও কারোর নাম চূড়ান্ত হয়নি।
১৫ ফেব্রুয়ারি রাজ্যসভা থেকে গুলাম নবি আজাদ অবসর নেবেন। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে একজনের নাম রাজ্যসভায় বিরোধী নেতা হিসাবে ঘোষণা করবেন কংগ্রেস হাইকম্যান্ড সনিয়া গান্ধি।
কংগ্রেস সূত্রে খবর, গুলাম নবি আজাদের বিকল্প হিসেবে ২০১৪-১৯ সাল পর্যন্ত লোকসভায় কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করা মল্লিকার্জুন খার্গের নাম আসছে সামনে। এছাড়া এই তালিকায় আছেন রাজ্যসভায় কংগ্রেসের ডেপুটি নেতা আনন্দ শর্মার নাম, প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী পি চিদম্বরম, মধ্যপ্রদেশের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী দিগ্বিজয় সিং।
কংগ্রেসের এক নেতার কথায়, ‘আজাদের জায়গায় কে আসছেন তা ১৫ ফেব্রুয়ারির পর আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করবেন সনিয়া।’
উল্লেখ্য, যে ২৩ জন নেতা কংগ্রেস দলের সংস্কার চেয়ে সনিয়াকে চিঠি দিয়েছিলেন, আজাদ তাঁদের একজন। সেই চিঠিতে নড়েচড়ে বসে দল। এখনও সেই বিতর্কের সমাধান হয়নি। তবে কংগ্রেস সভাপতি জানিয়েছেন, ওই নেতাদের বিরুদ্ধে তাঁর কোনও অভিযোগ নেই।
আঞ্চলিক ভারসাম্য বজায় রাখার দিকটি কংগ্রেস সভাপতির মাথায় থাকতে পারে। লোকসভায় কংগ্রেসকে নেতৃত্ব দেন পশ্চিমবঙ্গের সাংসদ অধীর রঞ্জন চৌধুরী। অধীরের ডেপুটি গৌরব গগৈও হিন্দিভাষী রাজ্যের নন। নিম্নকক্ষে হিন্দি বলয় থেকে মাত্র ৫ জন সাংসদ রয়েছে কংগ্রেসের। এদিকে, রাজ্যসভার নিরিখে আনন্দ শর্মা ও দিগ্বিজয় সিংয়ের মধ্যে একজনের সুযোগ পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আবার প্রবীণতা ও বাগ্মিতার দিক থেকে ৮ বারের সাংসদ চিদম্বরমের এই জায়গা পাওয়া উচিত বলে অনেকে মনে করেন। কেউ কেউ মনে করেন, আজাদের অবসরের কথা খেয়াল রেখেই গত বছর রাজ্যসভায় খার্গেকে আনা হয়েছিল। তিনি কংগ্রেসের একজন গুরুত্বপূর্ণ দলিত মুখ। লোকসভায় তাঁর জোরালো ভাষণ সবার স্মরণে আছে। তাছাড়া, তিনি ঝরঝরে হিন্দি বলতে পারেন। তবে অনেক বর্ষীয়ান নেতা চান রাজ্যসভায় আজাদকে আবার ফিরিয়ে আনা হোক।
প্রসঙ্গত, ১৯৯০ সালে মহারাষ্ট্র থেকে প্রথমবার রাজ্যসভার সদস্য হয়েছিলেন আজাদ। তারপর ১৯৯৬ সালে তাঁর নিজের রাজ্য জম্মু-কাশ্মীরের নির্বাচনে জয়। ১৯৯৬-২০০৬ সাল পর্যন্ত তিনি এই রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করেন। খুব অল্প সময়ের জন্য জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রীও হয়েছিলেন আজাদ। ২০১৪ সালে রাজ্যসভায় তাঁকে বিরোধী নেতা হিসাবে নির্বাচন করে কংগ্রেস।



