খবর লাইভ : ‘খবর লাইভ’-এর খবরের জেরে মাটি মাফিয়া কাজি কুতুবুদ্দিনের বেআইনি কাজ বন্ধের সিদ্ধান্ত হুগলি জেলা পুলিশের। দীর্ঘদিন ধরেই হুগলির ফুরফুরা ও আঁইয়া পঞ্চায়েত এলাকায় চাষিদের ভয় দেখিয়ে বেআইনিভাবে মাটি কাটছিল বাঁধপুর এলাকার বাসিন্দা কুতুবুদ্দিন। যা নিয়ে এলাকার চাষিদের পাশাপাশি আঁইয়া এলাকার ব্যবসায়ীদের মধ্যেও ক্ষোভ বাড়ছিল। যা নিয়ে তাঁরা প্রশাসনের বিভিন্ন দফতরে অভিযোগও করেন। ফলস্বরূপ কুতুবুদ্দিন বেশ কিছু বহিরাগতকে নিয়ে প্রতিবাদী চাষিদের প্রাণনাশের হুমকি দিতে থাকে। সে কৃষকদের জানায়, রমেশ মাহাতোর সাথে তার ভাল সম্পর্ক রয়েছে। তাই তার লোকজন নিয়েই সে মাটি কাটার কাজ করছে। এখানে বাধা দেওয়ার যে চেষ্টা করবে তাকে ছেড়ে কথা বলা হবে না।
উল্লেখ্য, হুগলির কুখ্যাত সমাজবিরোধী হিসাবে পরিচিত রমেশ মাহাতোর লোক হিসাবে পরিচয় দেওয়ায় কুতুবুদ্দিনকে বেশ ভয় পেয়ে যান এলাকার বাসিন্দারা। কুতুবুদ্দিনকে ফোন করা হলে সে নিজেকে কোনও এক ফুরফুরা শরিফের পীরজাদার আত্মীয় বলে পরিচয় দেয়। সে বলে, জাঙ্গিপাড়ার ভূমি ও ভূমি রাজস্ব দফতরের অফিসারদের ও পুলিশকে মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে এবং স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের মোটা অঙ্কের টাকা দিয়ে তবেই সে একাজ করছে। কেউ তার কিছু করতে পারবে না। বিষয়টি হুগলির পুলিশ সুপার আমনদীপকে জানালে তিনি পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন। স্থানীয় প্রশাসনকে ওই বেআইনি কাজ বন্ধ করার নির্দেশও তিনি দিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে।

প্রসঙ্গত, এর আগেও কুতুবুদ্দিনের বিরুদ্ধে বেআইনিভাবে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছিল। চণ্ডীতলা থানা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থাও নিয়েছিল। গ্রেফতারও করা হয়েছিল তার কয়েকজন সাগরেদকে। কিন্তু এবছর বাইরে থেকে দুষ্কৃতী এনে চাষিদের চমকে ফের বেআইনি কাজ শুরু করেছিল কুতুবুদ্দিন। যা নিয়ে ক্রমেই এলাকার ক্ষোভ বাড়ছিল। কুতুবুদ্দিন আঁইয়া এবং ফুরফুরা এলাকা ছাড়াও এবছর কৃষ্ণরামপুর এলাকাতেও বেআইনিভাবে মাটি কাটার কাজ করছে। সেখানেও কৃষকদের ভয় দেখানোর অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।


