খবর লাইভ : ইরানের শীর্ষ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা নাসের মাকারেম শিরাজি এক বিস্ফোরক ফতোয়া জারি করে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে “ঈশ্বরের শত্রু” বলে আখ্যা দিয়েছেন। তার দাবি, এই দুই বিশ্বনেতা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন, তাই তাদের বিরুদ্ধে বিশ্ব মুসলিম সমাজকে ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দাঁড়ানো উচিত।
এই ফতোয়ায় আয়াতোল্লা শিরাজি বলেন, “যে কোনও ব্যক্তি বা রাষ্ট্র যদি শিয়া মারজার বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়, তা ঈশ্বরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণার শামিল। এমন শত্রুদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো প্রতিটি মুসলিমের দায়িত্ব। এই সংগ্রামে কেউ শহিদ হলে, তাকে ঈশ্বরের যোদ্ধা হিসেবে সম্মান জানানো হবে।”
এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ধরণের কড়া ধর্মীয় বার্তা মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতিকে আরও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৩ জুন ইরানে ইজরায়েলের হামলার পর থেকেই উত্তেজনা তুঙ্গে ওঠে। একদিন পর ইরানও পাল্টা আক্রমণ চালায় ইজরায়েলের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি ও পারমাণবিক ঘাঁটিতে। এই হামলায় ইরানের সেনা চিফ মোহাম্মদ বাঘেরি, রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেন সালামি-সহ শীর্ষ সেনা কর্মকর্তারা প্রাণ হারান। ইরানের প্রত্যাঘাতে কেঁপে ওঠে তেল আভিভ-সহ গোটা ইজরায়েল।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয় ২২ জুন, যখন আমেরিকা সরাসরি ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে। মার্কিন বায়ুসেনা ইরানের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায়। ১২ দিন ধরে চলা রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সাময়িক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও রাজনৈতিক এবং ধর্মীয় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি।
এই অবস্থায় ইরানের ধর্মীয় নেতৃত্বের তরফে জারি হওয়া নতুন ফতোয়াকে কেন্দ্র করে আবারও উত্তেজনা ছড়াতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন আন্তর্জাতিক কূটনীতিকরা।




