চন্দন বন্দ্যোপাধ্যায় : “জিরো টলারেন্স”—শাসকদলের মুখে মুখে উচ্চারিত এই শব্দগুচ্ছ যেন এখন নিছকই রাজনৈতিক স্লোগান। বাস্তব পরিস্থিতি যখন সামনে আসে, তখন সেই ‘জিরো’ ঠিক কোথায়, তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন।
কসবা কলেজে গণধর্ষণ কাণ্ডের জেরে আটক এক ছাত্রনেতা। মুখপাত্র বললেন, “আমাদের দল নারীর সুরক্ষায় আপোষহীন, জিরো টলারেন্স নীতি আমাদের অঙ্গীকার।” তবু এক তাবড় নেতা তথা প্রাক্তন মন্ত্রীর প্রশ্ন, “মেয়েটি একা কেন গিয়েছিল?” কী আশ্চর্য, এখানে দায় যেন ভুক্তভোগীর!
কালীগঞ্জে বিস্ফোরণে মারা গেল ৯ বছরের তামান্না। গ্রেফতার হলেন স্থানীয় ব্লক সভাপতি। দলের প্রতিক্রিয়া, “আইন তার নিজস্ব পথে চলবে, আমরা দুর্বৃত্তদের বিরুদ্ধে।” কিন্তু প্রশ্ন করা গেল না, শিশুটি যদি বিরোধী পরিবারের হত, তার মৃত্যু কি সমান গুরুত্ব পেত?
এ রাজ্যের চাকরি প্রার্থীদের চোখের জল শুকিয়ে গিয়েছে। যারা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছিল, তারা আজ বেকার; আর যারা ঘুষে উত্তীর্ণ, তাদের পেছনে সরকার। সরকারের সাফাই, “দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স!” অথচ প্রতিবাদ করতে গেলে, ফিঙ্গারপ্রিন্ট সিস্টেমে নিঃশব্দ হয়ে যায় চিৎকার।
গরু পাচার, কয়লা কেলেঙ্কারি, রেশন দুর্নীতি, প্রতিটি ঘটনায় উঠে এসেছে প্রভাবশালী নেতাদের নাম। কেউ কেউ জেলে, তবু দলের ‘বিশ্বস্ত’ তালিকায় অটুট। দলের হর্তাকর্তারা তবু কেউ ভুলেও বলেন না “আমরা ব্যর্থ হয়েছি।” বরং একই বুলির পুনরাবৃত্তি, “আমরা জিরো টলারেন্সে বিশ্বাসী।”
আসলে জনগণের সহ্যশক্তিই এখন একমাত্র ‘আসল টলারেন্স’। দিন গড়ায়, বছর গড়ায় তবু সরকার বদলায় না, সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বদলায় না দুর্নীতির দৃশ্যপট। তবু কেউ জিজ্ঞেস করে না, এই সহ্যশক্তির সীমা কোথায়? কবে আর জিজ্ঞাসা করবেন, নারী তোর কাপড় কোথায়? আজ এ রাজ্যের সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, “ঘোষণায় জিরো টলারেন্স, কিন্তু বাস্তবে তার প্রতিফলন কই?” আসলে লাল নীল হয়, নীল লাল হয়, তবু দিন বদলায় না।




