খবর লাইভ : আমেদাবাদে ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনার পর চারদিকে শোকের ছায়া, আর তার মধ্যেই তৈরি হয়েছিল মৃত্যুর সঠিক সংখ্যা নিয়ে চরম বিভ্রান্তি। অবশেষে গুজরাট সরকার নিশ্চিত করেছে, বিমান দুর্ঘটনায় মোট ২৬০ জনের মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে।
গত ২৪ জুন, রাজ্য সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল, বিমান বিধ্বস্তে প্রাণ হারিয়েছেন ২৭৫ জন। তবে শনিবার, সরকারি বিবৃতিতে জানানো হয়, এ পর্যন্ত ২৬০টি মৃতদেহ শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। এর মধ্যে ২৫৪টি দেহের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে, আর বাকি ৬টি শনাক্ত হয়েছে অন্যান্য উপায়ে। শনাক্ত হওয়া সবকটি দেহ পরিজনদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।
আমেদাবাদ সিভিল হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্ট ডা. রাকেশ জোশি বলেন, “শেষ অজ্ঞাত দেহটির ডিএনএ পরীক্ষা শেষ হয়েছে। শনাক্ত করার পর তা পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে মোট ২৬০ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত।”
দুর্ঘটনাটি ঘটে ১২ জুন, মেঘানিনগরের বিজে মেডিক্যাল কলেজের ক্যান্টিন ভবনের উপর এয়ার ইন্ডিয়ার এআই ১৭১ ফ্লাইটটি ভেঙে পড়লে। উড়ানটি ছিল বোয়িং ৭৮৭ ড্রিমলাইনার মডেলের, যা এতদিন দুর্ঘটনামুক্ত থাকার নজির গড়েছিল। বিস্ফোরণ ও আগুনে পুড়ে যাওয়া বহু দেহ এতটাই বিকৃত হয়েছিল যে, তাৎক্ষণিক শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে দেহ সনাক্তকরণে সময় লাগে।
উল্লেখযোগ্যভাবে, নিহতদের তালিকায় রয়েছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রূপানিও। দুর্ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে মাত্র একজনই জীবিত রয়েছেন, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন।
সরকারের তরফে জানানো হয়েছে, দেহগুলি এতটাই ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় ছিল যে প্রকৃত সংখ্যা নির্ধারণে সময় লেগেছে। বর্তমানে তদন্ত চলছে, কীভাবে এই নিরাপদ বলে পরিচিত বিমানটি এমন মর্মান্তিক দুর্ঘটনার কবলে পড়ল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।



