খবর লাইভ : পহেলগাঁওয়ে পর্যটকদের উপর ভয়াবহ জঙ্গি হামলায় জড়িত তিনজন জঙ্গির সবাই পাকিস্তানের নাগরিক, এমনটাই জানিয়েছে ভারতের জাতীয় তদন্ত সংস্থা (NIA)। হামলার প্রায় তিন মাস পর তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে। এনআইএ জানিয়েছে, হামলায় স্থানীয় কোনও ব্যক্তি সরাসরি জড়িত ছিল না, যদিও পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করেছে দুই কাশ্মীরি যুবক।
সম্প্রতি পারভেজ আহমেদ জোথার ও বশির আহমেদ জোথার নামে দুই কাশ্মীরি তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে এনআইএ। তদন্তকারীদের দাবি, এই দুই যুবক লস্কর-ই-তইবা’র সদস্য এবং তারাই ওই তিন পাকিস্তানি জঙ্গিকে আশ্রয় দিয়েছিল। এই তিন জঙ্গির মধ্যে রয়েছে হামিস মুসা, আলি ভাট ওরফে তালহা এবং সুলেমান শাহ। প্রথমে আলি ভাটকে স্থানীয় বলে মনে করা হলেও, পরবর্তীতে তদন্তে তার পাকিস্তানি পরিচয় নিশ্চিত হয়।
গত ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ের বৈসারণ ভ্যালিতে সেনার পোশাকে ঘুরে বেড়ানো তিন জঙ্গি আকস্মিকভাবে পর্যটকদের ওপর হামলা চালায়। প্রাণ হারান ২৫ জন পর্যটক ও এক স্থানীয় নাগরিক। এই হামলার নেপথ্যে ছিল লস্কর-ই-তইবা। তদন্তে উঠে এসেছে, একই জঙ্গি সুলেমান শাহ এর আগে শ্রীনগর-সোনমার্গ হাইওয়ের টানেল হামলাতেও নেতৃত্ব দিয়েছিল।
এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার দুই কাশ্মীরি যুবকের ফোন থেকে আরও কয়েকজন সন্দেহভাজন জঙ্গির ছবি উদ্ধার করেছে পুলিশ। তদন্তকারীরা খুঁজে দেখছেন, হামলাকারীরা এখনও কাশ্মীরেই আত্মগোপনে আছে, নাকি ইতোমধ্যে পাকিস্তানে পালিয়ে গেছে।
এদিকে আতঙ্ক কাটিয়ে আবারও পর্যটকদের আনাগোনা শুরু হয়েছে পহেলগাঁওয়ে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা সোমবার পর্যটকদের আগমনের কিছু ছবি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করেছেন, যা কিছুটা হলেও স্বাভাবিকতার ইঙ্গিত দিচ্ছে এই জনপ্রিয় পর্যটন এলাকায়।



