International Special News Special Reports

বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়ে উত্তরাধিকারীর নাম সুপারিশ করলেন খামেনি, বাদ ছেলে মোজতবা

0
(0)

খবর লাইভ : ইরান বনাম ইজরায়েল সংঘাতে আমেরিকার প্রবেশ নিয়ে তাই উদ্বেগ বাড়ছে। এমন পরিস্থিতিতে ভবিষ্যতের প্রস্তুতি সেরে রাখছেন ইরানের সর্বোচ্চ শাসক আয়াতোল্লা আলি খামেনি। নিজের উত্তরসূরিও তিনি ঠিক করে ফেলেছেন বলে জানা যাচ্ছে।

ইরান বনাম ইজরায়েল সংঘাত যখন চরমে, সেই সময় থেকেই খামেনির অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন উঠছিল। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, খামেনি গোপন আশ্রয়ে রয়েছেন। তাঁর ঠিকানা জানা রয়েছে তাঁদের। কিন্তু কোথায় রয়েছেন খামেনি, তা স্পষ্ট ভাবে জানাননি।

কিন্তু ইরানের তিন-তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র গবেষণাগারে আমেরিকা আঘাত হানার পর, ফের খবরের শিরোনামে উঠে এসেছেন খামেনি। তিনি বাঙ্কারে আশ্রয় নিয়েছেন বলে দাবি নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর। শুধু তাই নয়, খামেনি নিজের উত্তরাধিকারীও ঠিক করে ফেলেছেন বলে খবর।

খামেনিকে হত্যার আশঙ্কা রয়েছে। তাই গোপন বাঙ্কারে রয়েছেন তিনি। অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত লোকজন ছাড়া কারও সঙ্গে দেখা করছেন না। বৈদ্যুতিন যোগাযোগ ব্যবস্থার মাধ্যমে কোনও বার্তাও পাঠান না। এতে তাঁর অবস্থান ফাঁস হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

তবে বাঙ্কারে বসেই ভবিষ্যতের পরিকল্পনা সেরে রাখছেন খামেনি। নিজের তিন উত্তরাধিকারীর নামও তিনি সুপারিশ করেছেন। ইরানের পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক হিসেবে তিন শীর্ষস্থানীয় ধর্মগুরুর নাম সুপারিশ করেছেন খামেনি। কিন্তু নিজের ছেলে, মোজতবাকে সেই তালিকায় রাখেননি।

খামেনির ছেলে মোজতবাও শিয়া ধর্মগুরু। Islamic Revolutionary Guard Corps-এর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতাও রয়েছে তাঁর। খামেনির পর তিনিই ইরানের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হবেন বলে জল্পনা ছিল এতদিন। কিন্তু ছেলেকে নিজের উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখতে নারাজ বলে জানা গিয়েছে। দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি ইব্রাহিম রইসিকেও একসময় খামেনির উত্তরাধিকারী হিসেবে দেখা হতো। কিন্তু ২০২৪ সালে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর।

আগেই ইরানকে আত্মসমর্পণ করতে আহ্বান জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। কিন্তু খামেনি সাফ জানিয়ে দেন, আমেরিকার সামনে মাথা নোয়ানোর প্রশ্নই ওঠে না। গতকাল হামলার পরও ইরান জানিয়েছে, এর শেষ দেখে ছাড়বে তারা।

কিন্তু খামেনির পরবর্তী পদক্ষেপ কী, তা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। পুরোদস্তুর হামলা নেমে এলে কী হতে পারে, এখন থেকেই তার প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছেন খামেনি। এতে যে তাঁর প্রাণ চলে যেতে পারে, তা বিলক্ষণ জানেন তিনি। আর তাতেি পরবর্তী সর্বোচ্চ শাসক বেছে রাখতে নির্দেশ দিয়েছেন।

১৯৭৯ সালে রহল্লা খামেনির মৃত্যুর পর ইরানের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত হন খামেনি। তাঁর কিছু হয়ে গেলে, ক্ষমতা হস্তান্তরে যাতে কোনও সমস্যা না হয়, কোনও ধন্দ যেন না থাকে, এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হয়ে গিয়েছে। ৮৮ জন ধর্মগুরুকে নিয়ে তৈরি Assembly of Experts-ই ইরানের সর্বোচ্চ শাসক নিযুক্ত করে। খামেনির কিছু হলে, তাঁর উত্তরাধিকারী নিয়োগ করবে তারাই। ট্রাম্প যদিও জানিয়েছেন, খামেনির ঠিকানা জানে আমেরিকা। কিন্তু এখনই তাঁকে হত্যার কোনও পরিকল্পনা নেই। কিন্তু ইজরায়েল কোনও রাখঢাক করেনি। ইজরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ পরিষ্কার জানান, খামেনিকে বাঁচিয়ে রাখা উচিত হবে না।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *