International Special News Special Reports

ইরানে আমেরিকার হামলার পর তড়িঘড়ি নিজেদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দিল ইজরায়েল

0
(0)

খবর লাইভ : ইরানে আমেরিকার হামলার পর তড়িঘড়ি নিজেদের আকাশ সীমা বন্ধ করে দিল ইজরায়েল। কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় তারা, এই সিদ্ধান্তে তা স্পষ্ট। ইরানে আমেরিকার হামলায় খুশি ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর সুরেই ‘শান্তির’ বার্তা দিলেন তিনি। বললেন, ‘‘শক্তির মধ্যে দিয়েই শান্তি আসে!’’ ইরানের পরমাণুকেন্দ্রকে নিশানা করা ট্রাম্পের এক শক্তিশালী সিদ্ধান্ত বলেই মনে করছেন ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ইরানের বিরুদ্ধে ‘যুদ্ধ’ চালিয়ে যাওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি।

ইজরায়েল জুনের মাঝামাঝি ইরানের পারমাণবিক ঘাঁটিতে বড় ধরণের বিমান ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়, যার ফলে তেহরানের অ্যাডভান্সড ডিফেন্স সিস্টেম ও উচ্চপদস্থ সামরিক নেতারা লক্ষ্যবিদ্ধ হন। এতে ইরানে নিহতের সংখ্যা ছাড়িয়ে গিয়েছে ২৬০, একই সঙ্গে ইজরায়েলে ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে ।

এই পরিস্থিতিতে রবিবার ভোরে ইরানের তিনটি পরমাণুঘাঁটি লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে আমেরিকার যুদ্ধবিমান। সমাজমাধ্যমে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই সে কথা জানিয়েছেন। আমেরিকা আক্রমণ করেছে ইরানের ফরডো, নাতান্‌জ় এবং এসফাহানে। হামলার পর আমেরিকার স্থানীয় সময় রাত ১০টায় হোয়াইট হাউস থেকে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেন তিনি। জানান, এর পরেও শান্তিস্থাপন না-করলে আরও ভয়ানক হামলা হবে ইরানে।

ইজরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ইরানকে চূড়ান্ত শত্রু হিসেবে ধরে নিয়ে এই আক্রমণ চালিয়েছেন। তিনি এই অভিযানের মাধ্যমে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত সুবিধা পেতে পারেন ।

ইরানে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হচ্ছে, যা ইজরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে ধ্বংসযজ্ঞ ঘটাচ্ছে। একদিকে ট্রাম্প দুই সপ্তাহের মধ্যে ইরানকে নতুন পারমাণবিক আলোচনায় আসার জন্য সময়সীমা দিয়েছেন; অন্যদিকে ভবিষ্যতে আক্রমণের “বাঁধা অপসারণ” সংক্রান্ত হুমকিও দিয়েছেন ।

তিনি “ইরানের কাছে যুদ্ধ নয়, পর্দার পিছনে চাপ প্রয়োগ” নীতি অনুসরণ করছেন যাতে ইরান ভয় পেয়ে আলোচনা করুক। একই সাথে ট্রাম্প জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ইজরায়েলের পক্ষে সম্পূর্ণ সমর্থন থাকবে; তবে সরাসরি যুদ্ধ না করে কূটনৈতিকভাবে চাপ প্রয়োগ করা হবে ।

জাতিসংঘ–সহ G7 দেশগুলো ইরান ও ইজরায়েলের প্রতি “সাবধানতা” ও “পর্যাপ্ত আত্মসংযম” অবলম্বন করার আহ্বান জানিয়েছে । ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ খামেনেই মার্কিন হস্তক্ষেপ পরিস্থিতিকে “অসমাধ্য ক্ষতি” সৃষ্টি করতে পারে বলে সতর্ক করেছেন ।

ইউরোপীয় নেতারা ইজরায়েলের একতরফা আক্রমণের বিরুদ্ধে এবং যুদ্ধবিরতির পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন ।

ভারত ইতিমধ্যেই “অপারেশন সিন্ধু” চালু করে ভয়াবহ পরিস্থিতির মধ্য থেকে প্রায় ১১০ ভারতীয় নাগরিককে আর্মেনিয়ার মাধ্যমে ইসরায়েল ও ইরান থেকে সরিয়ে নিয়েছে ।অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ছাত্র, পেশাজীবী, ও অন্যান্য রয়েছেন অভ্যন্তরীন সংগ্রহের তালিকায়। সরকার দ্রুত তাদের সুরক্ষার উদ্যোগ নিচ্ছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *