খবর লাইভ : রাষ্ট্রসঙ্ঘ নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক বৈঠকে ইরান আত্মনির্ভর অস্ত্র প্রতিরোধ ও আমেরিকার সামরিক উপস্থিতি নিয়ে তীব্র বিবাদে জড়িয়েছে। ইরান এই সম্মেলনে ঘোষণা করেছে, তারা পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর উপস্থিতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ও প্রয়োজনে “আক্রমণ” চালাতে প্রস্তুত।
ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি, আমীর সাঈদ ইরাভানি বলেন, “আমরা রাষ্ট্রসংঘ নিঃশর্তভাবে আহ্বান জানাচ্ছি, কোনও আক্রমণ বা হুমকি হলে আমরা আমাদের প্রতিরক্ষা সুরক্ষা চালিয়ে যাব এবং প্রয়োজনে প্রতিত্বর প্রয়োগ করব।”
এর উত্তরে, মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা থমাস‑গ্রিনফিল্ড কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা আত্মরক্ষায় সঙ্কোচ করব না; মার্কিন সেনা বা মিত্রদের উপর যদি হামলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র তা প্রতিহত করতে প্রস্তুত।” সেই সঙ্গে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্য স্পষ্ট করে দেন: “অতিরিক্ত উত্তেজনা নয়, আমরা চাই এটা শেষ হোক।”
ইরানের নজরে থাকা বহু শাখা সংগঠন যেমন পাকিস্তান, ইরাক, সিরিয়া ও লেবাননে সক্রিয়। পূর্বে ইজরায়েল ও হিজবুল্লার লক্ষ্যবস্তু আক্রমণে ইরান এগিয়ে এসেছে ।
আমেরিকা তাদের সব সামরিক কর্মী ও তাদের সমর্থকদের সুরক্ষা জোরালো করতে পশ্চিম এশিয়ায় অতিরিক্ত যুদ্ধজাহাজ, সাবমেরিন ও বিমানবাহিনী মোতায়েন করেছে ।
অপরাজেয় মধ্যপ্রাচ্যের আবহাওয়া প্রায় প্রতিদিনই বদলাচ্ছে। ইরানের এই হুঁশিয়ারি ইঙ্গিতে দ্বিতীয় ধাপের কঠিন উত্তেজনা হতে পারে। বিশ্বমঞ্চে দ্বিপক্ষীয় চাপ দেওয়া হচ্ছে।নিরাপত্তা পরিষদের আলোচনায় ইরান ও আমেরিকা একে অপরের দিকে আঙুল তুলেছে, এতে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা প্রশ্নে উত্তেজনা আরও বাড়ছে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি ও ইরানের আত্মরক্ষার দাবির মুখে অনেক দেশ মধ্যস্থতায় নিরস্ত উদাসীন বলে মনে হচ্ছে। শুক্রবার রাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘের নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে ইরান এবং ইজরায়েল, দু’দেশের প্রতিনিধিই যুদ্ধের জন্য পরস্পরকে দোষারোপ করেছেন। সেই সঙ্গে জানিয়ে দিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে লড়াই চালিয়ে যেতে তাঁরা বদ্ধপরিকর।
প্রসঙ্গত, তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র হানার আশঙ্কা রয়েছে, পশ্চিম এশিয়ার এমন ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ কয়েকটি সেনাঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান ও রণতরী সরিয়ে নিতে ইতিমধ্যেই শুরু করেছে আমেরিকা! পশ্চিম এশিয়ায় সবচেয়ে বড় মার্কিন সেনাঘাঁটি আল-উদেইদ বিমানঘাঁটিতে সাময়িক ভাবে অসামরিক কর্মীদের যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ইরান ফৌজ মার্কিন সেনাঘাঁটিতে হামলা চালালে সর্বাত্মক যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী।




