খবর লাইভ : রাজ্যের প্রধান নির্বাচনী আধিকারিকের (সিইও) দফতর পরিণত হল এক নাটকীয় রাজনৈতিক সংঘাতের মঞ্চে। সোমবার রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি প্রতিনিধি দলের আগমন শুরু থেকেই বাধার মুখে পড়ে। গো ব্যাক স্লোগান, পুলিশের সঙ্গে বচসা এবং পরবর্তীতে আইপ্যাক-এর বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে সিবিআই তদন্তের দাবি, সব মিলিয়ে সিইও অফিসের করিডোর কার্যত রণক্ষেত্রের রূপ নেয়।
বিজেপি প্রতিনিধিরা সিইও মনোজ আগরওয়ালের কার্যালয়ে পৌঁছতেই দফতর চত্বরে আগে থেকে অবস্থানরত তৃণমূলপন্থী বিএলওরা তাঁদের লক্ষ্য করে জোর গলায় গো ব্যাক স্লোগান দিতে থাকেন। উত্তেজনা আরও বাড়ে যখন শুভেন্দু অধিকারী সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে দফতরের ভেতরে প্রবেশ করতে চান।
অভিযোগ, সেই সময় পুলিশ তাঁদের বাধা দেয়, যা নিয়েই শুরু হয় তুমুল বাকবিতণ্ডা। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয় যে, ডিসি সেন্ট্রাল ইন্দিরা মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে সরাসরি বাদানুবাদে জড়িয়ে পড়েন বিরোধী দলনেতা। সিইও মনোজ আগরওয়াল নিজে নীচে নেমে আসার পর সাংবাদিকদের সামনে শুভেন্দু অধিকারী পুলিশের এই বাধার বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেন। সিইও-র সঙ্গে বৈঠকে শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যের ভোটার তালিকা সংক্রান্ত বিষয়ে আইপ্যাকের বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগের আঙুল তুলেছেন। শুভেন্দু বলেন, আইপ্যাকের সাহস হয় কীভাবে, ডেটা এন্ট্রিতে ঢুকছে?
বিরোধী দলনেতার মূল অভিযোগ হল, রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস আইপ্যাকের সঙ্গে হাত মিলিয়ে ভুয়ো এবং মৃত ভোটারদের নাম তালিকায় রেখে ভোটব্যাঙ্ক অক্ষত রাখার চেষ্টা করছে। এই গুরুতর অভিযোগে তিনি অবিলম্বে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআইকে দিয়ে পুরো বিষয়টি তদন্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
বর্তমানে খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ভোটার তালিকা সংশোধনের হিয়ারিং পর্ব চলছে। এই গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে শুভেন্দু অধিকারী নির্বাচন কমিশনের কাছে দুটি প্রধান শর্ত রেখেছেন। তাঁর স্পষ্ট দাবি, লোকসভা ভোটের মতো এবার হিয়ারিং পর্বে সিসিটিভি বা ওয়েবকাস্টিং বন্ধ করা যাবে না। কমিশনের নিজস্ব কন্ট্রোল রুম থেকে যেন প্রতিটি হিয়ারিং সিসিটিভি-র মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করা হয়।এছাড়াও রাজ্য সরকারের অফিসাররা হিয়ারিং করায় আপত্তি না থাকলেও, প্রতিটি ক্ষেত্রে মাইক্রো অবজারভার হিসেবে নিরপেক্ষ আধিকারিকদের নিয়োগ করতে হবে।এই আবহে শুভেন্দু অধিকারীর বক্তব্য, এটা সব দলের জন্যই প্রযোজ্য। আমরা ফেভার নয়, ফেয়ার চাই।
এই সমস্ত দাবি এবং অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এখন রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস বা আইপ্যাকের পক্ষ থেকে এই বিষয়ে এখনও কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া মেলেনি।




