International Special News Special Reports

ইরানের আকাশসীমায় চিনের বিমান, এবার কি তেহরানের পাশে থাকবে বেজিং

0
(0)

খবর লাইভ : মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। ইরানের মতে, ইজরায়েল তাদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা লঙ্ঘন করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। কিন্তু তেহরানের প্রতিক্রিয়ায় বলা হচ্ছে, ইজরায়েল সরাসরি বিমান অভিযান চালিয়েছিল, তার পরেই প্রতিিটি ড্রোন ইরানের প্রতিরক্ষা নিক্ষেপ করে নামিয়ে দেওয়ার দাবি করছে ইরানী সেনাবাহিনী।

ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধ না থামলে সেটা যে বিশ্বযুদ্ধের আকার নিতে পারে, সেটা কারও অজানা নয়। সেই আশঙ্কা আরও খানিকটা বাড়িয়ে দিল কয়েকটি রহস্যময় চিনা বিমান। আমেরিকার সংবাদমাধ্যমের দাবি, চিনের অন্তত পাঁচটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান বেজিং থেকে উড়ে গিয়েছে ইরানের দিকে। ওই বিমানগুলিতে যাত্রী বা পণ্য দুইই পরিবহণ করা যায়। চিন কী পাঠিয়েছিল? আদৌ ওই বিমানগুলি ইরানে গিয়েছে নাকি অন্য কোথাও? সবটাই রহস্য।

বিমান চলাচলের উপর নজরদারি চালানো সংস্থা ‘ফ্লাইটরেডার২৪’-কে উদ্ধৃত করে মার্কিন সংবাদমাধ্যম ফক্স নিউজ দাবি করছে, বিমানগুলি উত্তর চিন থেকে উড়ে কাজাকিস্তানের দিকে যায়। তার পর দক্ষিণে বাঁক নিয়ে উজবেকিস্তান এবং তুর্কমেনিস্তান পৌঁছোয়। সেগুলির অভিমুখ ছিল ইরানের দিকে। বিমানগুলিকে ইরানের আকাশসীমায় দেখা গিয়েছে। তবে সেগুলি ইরানেই রয়েছে, নাকি অবতরণের পর অন্য কোথাও গিয়েছে স্পষ্ট নয়। ওই প্রতিবেদনেই দাবি করা হয়েছে, বিমানগুলি নাকি লুক্সেমবার্গ যাচ্ছিল। কিন্তু সেটা হলে ওই বিমানগুলিকে ইউরোপের আকাশে দেখা যাওয়ার কথা। কোনওভাবেই ইরানের আশেপাশে নয়।

এখানেই রহস্য ঘনীভূত হচ্ছে। তাহলে কি বোয়িং ৭৪৭ বিমানগুলি পাঠিয়ে চিন তেহেরানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিল? ভূরাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের তেমনই ধারণা। ফক্স নিউজের দাবি, ওই বিমানগুলিতে যাত্রী পরিবহণ কিংবা পণ্য পরিবহণ দুইই ব্যবহার করা হয়। এগুলি যুদ্ধবিমান নয়। তবে চিন ওই বিমানে খাদ্য, অস্ত্র কিংবা অন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী চিন ইরানে পাঠাতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও চিনের সরকার বা বিমানসংস্থা কেউ এ নিয়ে সরকারিভাবে মুখ খোলেনি।

যদিও উত্তেজনার ফলে ইরান জুড়ে বিমান পরিষেবা স্থগিত করেছে। তেহরানের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দরে যাত্রীবাহী বিমানের উড্ডয়ন বন্ধ রাখা হয়েছে। এর ফলে, আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উড়ানগুলো চালু নেই।
ইরানের পশ্চিমাঞ্চলে নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে প্রশাসন নিশ্চিত করেছে, যেন কোনও বেসামরিক বিমানও পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে না যায়। তবে কিছুদিন পর পরিস্থিতির আপেক্ষায় বিমান চালানো শুরু হয়েছে বলেও সূত্র দিচ্ছে  ।

আলাপ-আলোচনায় বলা হয়েছে, “ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সব প্রতিকূলতা মোকাবেলার মত সক্ষম। ইসরায়েলের হামলায় কোনো ক্ষতি নেই।” বলে দাবি করছেন শীর্ষ ইরানি সেনা কর্মকর্তা সিয়াভোশ মিহানদোস্ত  ।

ওই রিপোর্ট সত্যি হলে, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধের নিরিখে সেটা বেশ তাৎপর্যপূর্ণভাবে। ইতিমধ্যেই রাশিয়া খোলাখুলিভাবে ইরানের পাশে দাঁড়ানোর বার্তা দিয়েছে। এবার যদি চিনও তেহেরানের পাশে দাঁড়িয়ে যায়, তাহলে ইজরায়েল বা আমেরিকাকে চাপে পড়তে পারে। বিশ্বযুদ্ধের যে আশঙ্কা করা হচ্ছে, সেটাও প্রবল হতে পারে। আসলে চিন গ্যাস এবং তেলের জন্য ইরান তথা পশ্চিম এশিয়ার উপর নির্ভরশীল। আবার শুল্কযুদ্ধের জন্য বেজিংয়ের সঙ্গে আমেরিকার দূরত্ব বেড়েছে। 

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *