খবর লাইভ : ইসলামিক রিপাবলিকের পতন চাইছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনিয়ের ভাগ্নে মাহমুদ মোরাদখানি। তিনি স্পষ্ট ভাষায় বলেন, ‘যে কোনও মূল্যে এই শাসকগোষ্ঠীকে উৎখাত করতে হবে।’ ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিও কড়া ভাড়ায় আক্রমণ করেছেন খামেনিকে।
মোরাদখানি হলেন খামেনিয়ের বোন বদরি হোসেন খামেনিয়ের ছেলে। ১৯৮৬ সালে তিনি ইরান থেকে পালান। বলা ভালো, পালাতে বাধ্য হন। এখন থাকেন ফ্রান্সে। বুধবার সেখান থেকেই মামার বিরুদ্ধে সুর চড়ান তিনি। তবে খামেনিইয়ের মৃত্যুতেই এই সংঘাতের অবসান হবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েছে তাঁর।
মোরাদখানি বলেন, ‘আমি যুদ্ধের পক্ষে নই। কিন্তু ইসলামিক রিপাবলিকের পতন না হলে ইরানে শান্তি ফিরবে না।’ তাঁর কথায়, ‘এই শাসনব্যবস্থাকে উৎখাত করতে যা যা করার দরকার তাই করতে হবে। আমাদের হাতে অন্য বিকল্প নেই।’
মামা খামেনির কট্টর সমালোচক হিসেবেই পরিচিত মোরাদখানি। তিনি ইসমালিক রিপাবলিকের ঘোর বিরোধী। তিনি বলেন, ‘শাসকের সব দুর্বলতা ধীরে ধীরে সামনে আসছে। এতে ইরানের অনেকেই মনে মনে খুশি হয়েছেন। তবে ইসলামিক রিপাবলিকের পতন না হলে কোনও লাভ হবে না।’
ইজরালের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু ইতিমধ্যেই খামেনিকে হত্যার হুমকি দিয়েছেন। তাঁর মতে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে হত্যা করলেই যুদ্ধ শেষ হবে। আবার খামেনির পরিণতি সাদ্দাম হোসেনের মতো হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইজরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইজরায়েল কাৎজ।
অন্যদিকে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে তোপ দেগেছেন নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভিও। তিনি বলেন, ‘খামেনি এখন ভয়ে ইঁদুরের গর্তে লুকিয়ে পড়েছেন।’ ইসলামিক রিপাবলিক আস্তে আস্তে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়ছে বলেও মনে করছেন তিনি। পাহলভির কথায়, ‘পরিস্থিতি এখন খামেনির আয়ত্তের বাইরে চলে গিয়েছে। ইসলামিক রিপাবলিকের পতন মানে ইরানিদের বিরুদ্ধে চলা ৪৬ বছরের যুদ্ধের সমাপ্তি।’
গত শুক্রবার ভোরে ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল। ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো ধ্বংস করে দেওয়াই মূল লক্ষ্য। হামলায় ইরানের একাধিক শীর্ষ বিজ্ঞানী নিহত। মৃত্যু হয়েছে ইসলামিক রিভোলিউশন গার্ডের প্রধানেরও। পাল্টা প্রত্যাঘাত করেছে খামেনির দেশও। তারপর এক সপ্তাহ কেটেছে। হামলা-পাল্টা হামলার মধ্যেই নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, ইরানের পরমাণু কেন্দ্রগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে ইজরায়েল থামবে না।




