খবর লাইভ : ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি, যাঁকে পশ্চিমী বিশ্ব “ইজরায়েল-আমেরিকার খতম তালিকায়” অন্যতম শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করেছে বর্তমানে গুরুতর সংকটের মুখে। ইরান-ইজরায়েল সংঘাতের জেরে তাঁর নেতৃত্ব প্রশ্ন হয়ে উঠেছে।
প্রসঙ্গত, ১৯৩৯ সালে ইরানের মাশহাদে জন্মগ্রহণ করেন আলি খামেনি। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর তিনি আধ্যাত্মিক নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিতি পান। ১৯৮১ থেকে ১৯৮৯ পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট থাকার পর, খোমেনির মৃত্যুর পর ১৯৮৯ সালে তিনি সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তবে, ঐতিহ্যগতভাবে সর্বোচ্চ নেতা হতে হলে একজনকে মারজা (শিয়া ধর্মের সর্বোচ্চ ধর্মীয় পদ) হতে হয়, কিন্তু খামেনি তা ছিলেন না। তাঁর নিয়োগ ছিল Assembly of Experts-এর মাধ্যমে, যা ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি অস্বাভাবিক ঘটনা।
সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে খামেনি ইরানের রাজনৈতিক, সামরিক ও ধর্মীয় ক্ষেত্রে পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ইরানের বিপ্লবী গার্ড (IRGC) ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার নিয়োগ ও অপসারণের ক্ষমতা রাখেন।
বর্তমানে, ইরান-ইজরায়েল সম্পর্ক তীব্র উত্তেজনায় রয়েছে। ইজরায়েল তেহরানকে বারবার সতর্ক করেছে যে, “খামেনির মৃত্যু না হওয়া পর্যন্ত তেহরানে হামলা চলবে।” অন্যদিকে, আমেরিকা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষণা করেছেন যে, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা কোথায় লুকিয়ে আছেন, তা আমরা জানি, কিন্তু আপাতত তাঁকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে না।” তবে, তাঁর মন্তব্যে ইরানের প্রতি কঠোর অবস্থান স্পষ্ট।
এই পরিস্থিতিতে, খামেনির নেতৃত্বের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তাঁর গুরুতর অসুস্থতা ও রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে, তাঁর পুত্র মোজতবা খামেনির নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে উঠে এসেছে। তবে, এই উত্তরাধিকারের প্রক্রিয়া ইরানের রাজনৈতিক কাঠামোয় একটি গুরুত্বপূর্ণ ও বিতর্কিত বিষয়।




