খবর লাইভ : নতুন তথ্য অনুযায়ী, ১২ জুন অহমদাবাদ বিমানবন্দর থেকে লন্ডনের উদ্দেশে উড্ডয়নরত এয়ার ইন্ডিয়া ফ্লাইট AI171-এর ভয়াবহ দুর্ঘটনায় ২৪১ জন যাত্রী ও ক্রু সদস্যের মৃত্যু হয়েছে। বিমানটি একটি ডাক্তারি হস্টেলে আছড়ে পড়লে বিস্ফোরণে চারপাশ কেঁপে ওঠে। দুর্ঘটনার পরপরই প্রথম ব্ল্যাক বক্স বা ডেটা রেকর্ডার উদ্ধার করা হলেও, দ্বিতীয় ব্ল্যাক বক্স ককপিট ভয়েস রেকর্ডার (CVR) চার দিন পর উদ্ধার করা হল, যা তদন্তকারীদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সরবরাহ করবে।
প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিব পিকে মিশ্র রবিবার দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন এবং সোমবার ব্ল্যাক বক্স উদ্ধারের পর তাঁর কাছে খবর পৌঁছায়। দুর্ঘটনার তদন্ত করছে এয়ারক্র্যাফট অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্যুরো (AAIB) এবং এয়ারপোর্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (AAI)। তারা বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর প্রধান সচিবের সঙ্গে তাদের একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক হয়েছে এবং তদন্তের অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কেন্দ্রীয় সরকারের অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক অহমদাবাদের দুর্ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করেছে, যারা তিন মাসের মধ্যে তাদের রিপোর্ট জমা দেবে।
এদিকে, এয়ার ইন্ডিয়া কর্তৃপক্ষ তাদের বোয়িং ৭৮৭-৮ এবং ৭৮৭-৯ ফ্লিটের জন্য অতিরিক্ত রক্ষণাবেক্ষণ নির্দেশনা জারি করেছে। ডিজিটাল ফ্লাইট ডেটা রেকর্ডার (DFDR), কেবিন এয়ার কম্প্রেসার, ইলেকট্রনিক ইঞ্জিন কন্ট্রোল সিস্টেম, এবং ইঞ্জিন ফুয়েল সিস্টেমের পরীক্ষা-নিরীক্ষা বাড়ানো হয়েছে। এই পদক্ষেপগুলি বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা এড়াতে সহায়ক হবে।
এখনও পর্যন্ত একমাত্র জীবিত ব্যক্তি ব্রিটিশ নাগরিক বিশ্বাশ কুমার রামেশ জানিয়েছেন, বিমানে অগ্নিকাণ্ডের আগে তিনি বিমানের সামনের অংশে আলো ফ্ল্যাশ হতে দেখেন এবং হঠাৎ স্টল অনুভব করেন, যা তাঁকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সহায়তা করে। তাঁর অবস্থান ছিল বিমানের পঞ্চম সারিতে, যা তাঁকে দ্রুত বেরিয়ে আসতে সহায়ক ছিল।
এই দুর্ঘটনা ভারতের ইতিহাসে অন্যতম ভয়াবহ বিমান দুর্ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে গভীর শোকের সৃষ্টি করেছে। তদন্তকারীরা ব্ল্যাক বক্সের তথ্য বিশ্লেষণ করে দুর্ঘটনার কারণ নির্ধারণের চেষ্টা করছেন, যা ভবিষ্যতে বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।



