খবর লাইভ : ইজরায়েল-ইরান সংঘর্ষের প্রেক্ষাপটে পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তীব্রতর হচ্ছে। ইরান কর্তৃক সীমান্ত দিয়ে তেল সরবরাহ বন্ধের ফলে স্থানীয় অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি চরমে পৌঁছেছে।
পাকিস্তানের বালোচিস্তান প্রদেশ ইরান ও আফগানিস্তানের সাথে সীমান্ত ভাগ করে নেয় এবং ইরান থেকে দৈনিক ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানি করে থাকে। তবে, ইরান সম্প্রতি বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যার ফলে তুরবাত শহরে বিদ্যুৎ বিভ্রাটের প্রতিবাদে স্থানীয়রা বিক্ষোভে নামে। বিক্ষোভকারীরা ব্যবসা-বাণিজ্যে ক্ষতির অভিযোগ তুলে শাটার ডাউন ধর্মঘটের হুমকি দেয় ।
এছাড়া, বালোচিস্তান লিবারেশন আর্মি (BLA) সহ স্বাধীনতাপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর সংঘর্ষও অব্যাহত রয়েছে। এই গোষ্ঠীগুলো ইরান সীমান্তবর্তী এলাকায় সক্রিয়, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে ।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়েছে স্থানীয় অর্থনীতিতেও। পেট্রল ও ডিজেলের দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় পরিবহন খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। এছাড়া, খাদ্য সরবরাহেও ঘাটতি দেখা দিয়েছে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলছে।
এই পরিস্থিতিতে, পাকিস্তান সরকার সীমান্ত দিয়ে তেল ও গ্যাস আমদানির জন্য নতুন পথ খোলার চেষ্টা করছে। তবে, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে বালোচিস্তানের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যাচ্ছে।
বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো এই সংকটের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিয়ে গবেষণা শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞরা আশঙ্কা করছেন, এই সংকট যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে বালোচিস্তানের অর্থনীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।




