খবর লাইভ : ডোনাল্ড ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের সম্পর্ক এখন অতীত। মাস্ক যদি তাঁর বিল আটকে দিতে ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেন, তবে গুরুতর পরিণতি হতে পারে, এমন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে, তিনি এখনও মাস্কের কোম্পানির সঙ্গে সরকারি চুক্তি বাতিলের বিষয়ে কিছু ভাবেননি। এই সম্পর্কের অবনতির পেছনে রয়েছে মাস্কের সমালোচনা করা একটি বিল, যা ট্রাম্পের প্রশাসন পাস করানোর চেষ্টা করছে। মাস্কের মতে, এই বিল আমেরিকার অর্থনীতির ক্ষতি করবে। ট্রাম্প অবশ্য এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছেন। তবে, এই দ্বন্দ্বের ফলে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বৃদ্ধি পেয়েছে।
একটি সাক্ষাৎকারে ট্রাম্পকে মাস্ক নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। জানতে চাওয়া হয়, মাস্কের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক শেষ হয়ে গিয়েছে কি না। উত্তরে ট্রাম্প বলেন, ‘‘হ্যাঁ। আমার তাই মনে হয়।’’ এই সম্পর্ক মেরামত করতে চান? ট্রাম্পের উত্তর, ‘‘না। ওঁর সঙ্গে কথা বলার কোনও ইচ্ছা আমার নেই।’’
আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে প্রচারে মাস্ককে পাশে পেয়েছিলেন ট্রাম্প। রিপাবলিকান প্রার্থীর প্রতি মাস্ক সম্পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছিলেন। ট্রাম্পের হয়ে প্রচারও করেছেন। ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসনে বিশেষ গুরুত্ব পান মাস্ক। তাঁকে প্রেসিডেন্টের বিশেষ পরামর্শদাতা হিসাবে নিয়োগ করা হয়েছিল। তাঁর জন্য গড়ে দেওয়া হয়েছিল আলাদা একটি দফতর। সেই সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতর (ডিওজিই)-এর কাজ ছিল অপ্রয়োজনীয় খরচে কাটছাঁট করে সরকারের সাশ্রয়ের ব্যবস্থা করা। ট্রাম্প এবং মাস্কের ঘনিষ্ঠতা দিন দিন বাড়ছিল। কিন্তু সম্প্রতি ট্রাম্পের একটি বিল সেই সম্পর্কে কার্যত ইতি টেনে দিয়েছে।
এক সময়ের দুজনের মধুর সম্পর্ক এখন কাদা ছোড়াছুড়ির পর্যায়ে পৌঁছে গিয়েছে। এমনকি, মাস্ক আলাদা দল গঠনের ইঙ্গিতও দিয়ে রেখেছেন। ট্রাম্পের স্বাক্ষরের পর এই বিতর্কিত বিলটি মার্কিন হাউস অফ রিপ্রেজ়েন্টেটিভ্সে পাশ হয়ে গিয়েছে। এখনও সেনেটে বিল পাশ হওয়া বাকি। তা হলেই তা আইনে পরিণত হবে।
যদিও সেনেটে কাজটি ততটা সহজ হবে না। কারণ রিপাবলিকানদের পাশাপাশি সেখানে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যাও নেহাত কম নয়। কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, মাস্ক এই বিল আটকাতে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকতে পারেন। তাঁদের অর্থসাহায্য করতে পারেন। যদি তা হয়, কী করবেন ট্রাম্প? সেটাই এখন লাখ টাকার প্রশ্ন।




