খবর লাইভ : মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ‘One Big Beautiful Bill’ বা ‘বড় সুন্দর বিল’ নিয়ে ফের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানালেন টেসলা প্রধান ইলন মাস্ক। মঙ্গলবার এক্স হ্যান্ডলে পোস্ট করে মাস্ক বলেন, “এই বিলের জন্য ব্যয় করা অত্যন্ত জঘন্য কাজ। যারা এই বিলের পক্ষে ভোট দিয়েছেন, তারা জানেন যে তারা ভুল করেছেন।” তিনি আরও দাবি করেন, “এই বিল আমেরিকার আর্থিক ঘাটতি আরও বৃদ্ধি করবে এবং দেশকে দেউলিয়া করে তুলবে।”
মাস্কের এই সমালোচনার পর হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট বলেন, “প্রেসিডেন্ট জানেন ইলন মাস্কের অবস্থান কী। এই ধরনের মন্তব্য প্রেসিডেন্টের মতামতের কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না।”
উল্লেখ্য, মাস্ক সম্প্রতি সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতরের (DOGE) গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দিয়েছেন। তিনি দাবি করেন, “ট্রাম্প প্রশাসনের অন্দরে থেকে এত দিন যে কাজ করেছি, তা এই একটি বিলের কারণে ব্যর্থ হয়ে যাবে।”
মাস্ক যদিও সরাসরি ট্রাম্পকে নিশানা করেননি। তাঁর নিশানায় ছিল মার্কিন কংগ্রেস। তবে প্রায় সকলেই এক বাক্যে স্বীকার করে নিচ্ছেন, মাস্ক ঘুরিয়ে ট্রাম্পকেই আক্রমণ করতে চেয়েছেন। তবে মাস্কের এই অভিযোগের জবাব দিতে দেরি করেনি হোয়াইট হাউস। প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লিভিট স্পষ্ট জানান, এই সমালোচনায় ট্রাম্পের মতামতের কোনও পরিবর্তন ঘটাবে না। তাঁর কথায়, ‘‘মার্কিন প্রেসিডেন্ট জানেন এই বিলের ব্যাপারে ইলন মাস্কের অবস্থান কী। তাই এই ধরনের কথা প্রেসিডেন্টের মতের কোনও পার্থক্য ঘটবে না। তিনি এই বিলের ব্যাপারে অটল।’’
চলতি মাসের শেষের দিকেই আমেরিকার সরকারি দক্ষতা বিষয়ক দফতর (ডিপার্টমেন্ট অফ গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি বা ডিওজিই)-এর গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে ইস্তফা দেন মাস্ক। তবে দিন দুয়েক আগেও ট্রাম্পের এই নতুন বিল নিয়ে সমালোচনা করেছিলেন তিনি। মাস্ক প্রকাশ্যেই সে সম্পর্কে জানিয়েছিলেন, ‘‘কোনও বিল একই সঙ্গে বড় এবং সুন্দর হতে পারে না।’’
কী রয়েছে ট্রাম্পের এই ‘বড় সুন্দর বিলে’? ১,১১৬ পাতার এই বিলে জোর দেওয়া হয়েছে কর কাঠামোর উপর। আমেরিকায় যাঁরা এইচ-১বি এবং গ্রিনকার্ড নিয়ে বসবাস করেন, তাঁরাই বেশি সমস্যায় পড়বেন। আমেরিকার নাগরিক নন, অথচ কর্ম বা ব্যবসা সূত্রে সেই দেশে থাকেন, তাঁরা নয়া কর কাঠামোর আওতায় পড়বেন। বিলে প্রস্তাব করা হয়েছে, মার্কিন নাগরিক নন, এমন ব্যক্তিরা যদি আমেরিকায় উপার্জিত টাকা নিজের দেশে পাঠাতে চান, তবে তার উপর পাঁচ শতাংশ কর চাপানো হবে। করের ব্যাপারে কোনও ছাড় সীমার কথা উল্লেখ করা হয়নি। অর্থাৎ যে কোনও পরিমাণ মূল্য পাঠালেই তাঁকে কর দিতে হবে! তবে কেউ যদি আমেরিকার নাগরিক হন, তবে তাঁর ক্ষেত্রে এই আইন প্রযোজ্য হবে না।




