National Special News Special Reports State

ন্যানো ড্রোন অধরা প্রাইমারি রেডারে, কী ভাবে নিয়ন্ত্রণ সম্ভব? 

0
(0)

খবর লাইভ : উড়ন্ত ড্রোনে কি নজরদারি সম্ভব? প্রশ্নটা উড়ছে বাতাসে। দিন কয়েক আগেই কলকাতার আকাশে আচমকাই দেখা দিয়ে উধাও হয়ে যায় গোটা ছয়েক ড্রোন। এগুলি কাদের ড্রোন, কেন উড়েছিল, কোথা থেকে এসে সেই ড্রোন কোথায় চলে গেল — সে প্রশ্নের উত্তর অধরা। এ নিয়ে হয়তো এতটা ‘মাথাব্যথা’ হতো না যদি এখন পরিস্থিতি অনুকূল থাকত। কিন্তু, তা নেই। পশ্চিমে পাকিস্তান। পুবে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক এখন ততটা মধুর নয়।

কী ভাবে আটকানো সম্ভব ড্রোনের এই অবাধ ওড়াউড়ি? রেডারে কি ধরা পড়ে সেই উড়ন্ত ‘মাথাব্যথার’ গতিবিধি?

কলকাতা বিমানবন্দরে দু’রকমের রেডার আছে — প্রাইমারি ও সেকেন্ডারি। ট্রান্সপন্ডার না থাকলেও, বিমানবন্দরের ১০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধ এলাকায় আকারে কিছুটা বড় উড়ন্ত কোনও বস্তুকে খুঁজে ফেলে প্রাইমারি রেডার। মুশকিল হলো, ছোট ড্রোনের মতো কোনও বস্তু ধরা পড়ে না সেই রেডারে। আর সেকেন্ডারি রেডারে ড্রোনের গতিবিধি ধরতে হলে সেই ড্রোনের মধ্যে ট্রান্সপন্ডার থাকা জরুরি। অথচ কোনও ড্রোনেই ট্রান্সপন্ডার থাকে না।

আকাশে সেনাবাহিনীরও নিজস্ব নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে। তবে, বিমান পরিবহণে অভিজ্ঞ অফিসারদের দাবি, ছোট ড্রোনের উপরে নিয়মিত নজরদারি প্রায় অসম্ভব।

পাঁচ রকমের ড্রোন আছে (গ্রাফিক্স দ্রষ্টব্য)। সাধারণত বিয়ে, শুটিং, নানা অনুষ্ঠানে ব্যবহার হয় ন্যানো ড্রোন। সেগুলির কাজ মূলত ছবি তোলা। তার রেঞ্জ ২০০ ফুট হলেও মাটি থেকে বড়জোর ৪০–৫০ ফুট উপর থেকে ছবি তোলা হয় এই ড্রোন দিয়ে। এ ছাড়াও পুলিশি নজরদারিতে, পুরসভা মশার ওষুধ ছড়াতে বা কোনও সমীক্ষার জন্য ছোট ড্রোন ব্যবহার করা হয়। তবে কোথা থেকে তারা উড়ছে, কারা ওড়াচ্ছে, কোথায় কোথায় উড়ছে — তার নজরদারির কোনও উপায়ই নেই। পুলিশের এক কর্তার কথায়, ‘আকাশের দিকে হাঁ–করে চেয়ে বসে থাকা ছাড়া আপাতত কিছু করার নেই।’

ন্যানো ছাড়া বাকি সব ড্রোন ওড়াতে ইউনিক এয়ার অপারেটার্স পারমিট নিতে হয়। সেটা দেয় ভারতের আকাশের নিয়ন্ত্রক সংস্থা, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ সিভিল এভিয়েশন (ডিজিসিএ)। প্রতিবার ওড়ার আগে সেগুলির ফ্লাইট প্ল্যান জমা দিতে হয়। সেগুলি কোথা থেকে, কোন কোন এলাকা দিয়ে উড়বে, তা সেই ফ্লাইট প্ল্যানে জানাতে হয়। ঠিক যেমন প্রতিটি বিমানকে টেক–অফ করার আগে এই ফ্লাইট প্ল্যান জমা দিতে হয়। ড্রোনের সেই ফ্লাইট প্ল্যান পাঠিয়ে দেওয়া হয় এয়ার ট্র্যাফিক কন্ট্রোল (এটিসি)–এর কাছে। ফলে, আকাশে কখন, কোথায়, কত বড় ড্রোন উড়ছে তা আগাম জানতে পারেন এটিসি–র অফিসারেরা। সেই মতো, তাঁরা সেই পথ এড়িয়ে যেতে পরামর্শ দেন বিমানকে।

এটিসি–র এক কর্তার কথায়, ‘মিডিয়াম বা লার্জ ড্রোন মাটি থেকে ১০ হাজার ফুট উপর দিয়ে উড়ে যায়। মূলত সেনাবাহিনী, উপকূলরক্ষী বাহিনী–সহ দেশের নিরাপত্তার সঙ্গে যারা যুক্ত, তারাই বড় ড্রোন ব্যবহার করে। মাটি থেকে যিনি এই ড্রোন চালনা করেন, তাঁকেও পাইলট বলা হয়। আমরা এটিসি থেকে প্রতি মুহূর্তে সেই পাইলটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখি। তিনি ড্রোনের অবস্থান জানাতে থাকেন। কোনও কোনও ক্ষেত্রে মাটি থেকে ২২ হাজার ফুট উপরেও উড়তে পারে এই ড্রোন। কোনও কোনও বড় ড্রোন প্রায় ৩০ ফুট লম্বাও হয়।’

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বড় নয়, নজরদারির সমস্যা মূলত ন্যানো ড্রোন নিয়ে। এর লাইসেন্স লাগে না। ঠিক কত ড্রোন আছে, তার তালিকা কোথাও নথিভুক্ত নেই। এগুলির সম্পর্কে কার্যত কোনও তথ্যই নেই পুলিশের কাছে। খোলা বাজারেও বিক্রি হয়। পুলিশকর্তাদের দাবি, ড্রোন নিয়ে যে হামলার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, তা ন্যানো ড্রোনের মাধ্যমে করা মুশকিল। কারণ ন্যানো ড্রোনের অতটা ক্ষমতা নেই। বারুদ নিয়ে উড়লেও তার অভিঘাত ততটা জোরালো হবে না। তবে, চাইলে ন্যানো ড্রোন উড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ জায়গার ছবি তুলে নেওয়া যায়।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *