খবর লাইভ : অবশেষে আড়াই বছর পর ভীমা কোরেগাঁও মামলায় জামিন পেলেন তেলেগু কবি ভারভারা রাও। চিকিৎসার জন্য তাঁকে ছয় মাসের জামিন দিল বোম্বে হাইকোর্ট।
ভীমা-কোরেগাঁও মামলায় ২০১৮ সালের অগাস্ট মাস থেকে ভারভারা রাও জেলে রয়েছেন। সেখানেই অনেকবার গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তিনি। একাধিকবার তাঁর শারীরিক অবস্থা এতটাই খারাপ হয় যে হাসপাতালে ভর্তিও করা হয়। এখনও মুম্বইয়ের নানাবতী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ৮২ বছরের এই তেলেগু কবি। সেই চিকিৎসার স্বার্থেই এদিন ভারভারা রাওয়ের জামিন মঞ্জুর করল হাইকোর্ট। তবে কয়েকটি শর্ত রেখেছে বিচারপতি এসএস শিন্ডে বিচারপতি মণীশ পিতালের বেঞ্চ।
হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছে, জামিনে থাকাকালীন মুম্বইয়ে থাকতে হবে ভারভারা রাওকে। তদন্তের স্বার্থে এনআইএ ডাকলেই তাঁকে সময়মত হাজিরা দিতে হবে। এছাড়াও পাসপোর্ট জমা রাখতে হবে কেন্দ্রীয় সংস্থার কাছে। এদিন ৫০ হাজার টাকার ব্যক্তিগত বন্ডে সমাজকর্মীর জামিন মঞ্জুর করা হয়েছে। জামিন মঞ্জুরের সময় বিচারপতি বলেন, এখন ভারভারা রাওকে জামিন না দিলে আদালতের মানবাধিকার রক্ষার অধিকারকে অসম্মান করা হবে।
উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে হত্যার ষড়যন্ত্রে যুক্ত থাকা এবং মাওবাদীদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার অভিযোগে প্রবীণ অধ্যাপক এবং কবি ভারাভারা রাওকে ২০১৮ সালের ২৮ অগাস্ট গ্রেফতার করে পুণে পুলিশ। ওই মামলার চার্জশিটে দাবি করা হয়, সে বছরের ১ জানুয়ারি ভীমা কোরেগাঁওতে দলিত বিজয় দিবস অনুষ্ঠানে ব্যাপক হিংসার পিছনে ভারভারা ছাড়াও আরও ৪ জন সমাজকর্মী জড়িত ছিলেন। যদিও প্রবীণ তেলেগু কবির গ্রেফতারের পর দেশজুড়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে এবং প্রমাণ ছাড়াই তাঁকে গ্রেফতার করা হয় বলেও বিভিন্ন মহলে দাবি ওঠে। অন্যদিকে, সোমবার ভারভারা রাওয়ের জামিনের পর তাঁর মেয়ে জানিয়েছেন, ‘আমাদের জন্য স্বস্তির খবর। এটাই ভীমা কোরেগাঁও মামলার প্রথম জামিন। আমরা খুব খুশি। একটাই মাত্র শর্ত আমাদের মুম্বইয়ের বাইরে গেলে চলবে না। সেইমত আমাদের কাজ করতে হবে। আমরা আমাদের আইনজীবীদের সঙ্গে কথা বলব।’



