খবর লাইভ : খালি বুয়া-ভাতিজা? আপনার ছেলে কী করে? বৃহস্পতিবার এই ভাষাতেই সরাসরি নাম করে অমিত শাহকে তোপ দাগলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। একইসঙ্গে রাজ্যবাসীর কাছে বাংলাকে বিজেপির হাত থেকে বাঁচাতে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে শাহকে মমতার জবাব, ‘দিদি গলা কেটে দেবে, তাও আপনাদের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না।’
বিজেপির ইদানীংকালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর ভাইপো অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে নিয়ে একসঙ্গে ‘পিসি-ভাইপো’ বলে আক্রমণ করার ঘটনা নতুন নয়। এদিন কোচবিহারে ‘পরিবর্তন যাত্রা’র সূচনা করেও ‘পিসি-ভাইপো’র বিরুদ্ধে তোপ দাগেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এমনকি ‘ভোটের পর দিদিও জয় শ্রীরাম বলবে’ বলেও দাবি জানান তিনি। শাহের এই দাবির কয়েক ঘন্টার মধ্যেই পাল্টা জবাব দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এদিন তিনি সরাসরি অমিত শাহর ছেলের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে নিশানা করে পাল্টা প্রশ্ন ছুঁড়ে বলেন, ‘খালি বুয়া-ভাতিজা? আপনার ছেলে কী করে? কী করে এল এত টাকা? প্রথমে এর জবাব দিন।’ একইসঙ্গে নিজেকে ‘স্ট্রিট ফাইটার’ উল্লেখ করে মমতা বলেন, ‘এটা আমার গৌরব। সরকারে থাকলেও আমি রাস্তার লোক। সরকারের না থাকলেও আমি রাস্তার লোক। সবসময় মানুষের পাশে আছি।’
কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলায় এসে যেভাবে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তা নিয়েও এদিন সরব হন মমতা। সৌজন্যতা একতরফা হয় না স্মরণ করিয়ে মমতা বলেন, ‘আজকেও তিনি এসেছেন, আমাদের এখানে আসুন, সবাইকে আমরা স্বাগত জানাই। তিনি এসে যে কথাগুলো বলে গেলেন, তাঁদের বডি ল্যাঙ্গুয়েজ, ভাষার কদর্যতা এবং দৈত্যপনার মনোভাব, দুরন্ত ক্ষমতার অপব্যবহার করে যেন ধমকি দিতে এসেছেন। একটা দেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখে এই রকম কথা মানায় না।’
তাঁর সরকার কেবল প্রতিশ্রুতি দেয় না, কাজও করে দাবি জানিয়ে দিন বিজেপি-কে চ্যালেঞ্জও ছোঁড়েন তৃণমূল সুপ্রিমো। তাঁর কথায়, ‘অত সোজা খেলা নয়। আসুন না একটা খেলা হয়ে যাক। রাজনীতির খেলা, গণতন্ত্রের খেলা। ব্রিগেডের মাঠে হয়ে যাক। আপনারা থাকবেন, তার সঙ্গে কংগ্রেস, সিপিএমকেও দিয়ে দিলাম। আর আমি থাকব গোল কিপার হয়ে। দেখব, ক’টা গোল দিতে পারেন আপনারা।’ এদিন বাংলার মানুষের কাছে বিজেপিকে রাজ্য থেকে বিতাড়িত করারও ডাক দেন মমতা। তিনি বলেন, ‘দেখে আসুন ত্রিপুরায় কেউ কথা বলতে পারে না। কোনও প্রতিবাদ করা যায় না। উত্তরপ্রদেশে পুলিশ, সাংবাদিকও নিরাপদ নন। সবার কাছে আমার আহ্বান, বাংলাকে রক্ষা করুন, বাংলাকে বাঁচান।’




