খবর লাইভ : কয়লা ও গরু পাচারকাণ্ডে ফেরার যুব তৃণমূল নেতা বিনয় মিশ্রের খোঁজ জানতে চেয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আপ্ত-সহায়ককে ফোন করেছিল ইডি। মঙ্গলবার এমনই বিস্ফোরক দাবি করলেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী।
মঙ্গলবার শুভেন্দু অধিকারী দক্ষিণ ২৪ পরগনার বারুইপুরের জনসভা থেকে দাবি করেন, ‘এখানে আসতে আসতে মেসেজ পেলাম, ভাইপোর পিএ-কে ইডি (এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট) ফোন করেছে। বিনয় মিশ্র কোথায়?’
বিনয় মিশ্রর বাড়িতে একাধিকবার হানা দিয়েছে সিবিআই। তার খোঁজ না পেয়ে জারি করা হয়েছে লুকআউট নোটিস। এর আগেও শুভেন্দুর মুখে বিনয় মিশ্রের কথা শোনা গিয়েছিল।
বিজেপি নেতারা বলতে শুরু করেছেন, এখন বিনয় মিশ্রকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না ঠিকই, কিন্তু যেদিন ওকে পাওয়া যাবে সেদিন দেখবেন ভাইপোকে খুঁজে পাওয়া যাবে না! তমলুকের জনসভা থেকে সম্প্রতি শুভেন্দু নথি দেখিয়ে দাবি করেছিলেন, কয়লা পাচারের পাণ্ডা লালার টাকা থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যঙ্ককের ব্যাঙ্কে যায়। সেই সভা ছিল অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কুলতলির সভার পরের দিন। কার্যত তাঁকে জবাব দিতেই শুভেন্দু সেদিন বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছিলেন। এদিন তাতে আরও মাত্রা যোগ হল। হাতে কাগজ দেখিয়ে শুভেন্দু বলেন, ‘এই দেখাচ্ছি। কয়লা আর গরু পাচারের টাকা যেত থাইল্যান্ডের কাসিকর্ন ব্রাঞ্চের ব্যাঙ্কে।’ তারপর শুভেন্দু বলেন, ‘এই কাগজের প্রিন্ট আউট সংবাদমাধ্যমকে দিয়ে দেবেন। তারপর যেন সাংবাদিকরা স্টাডি করে দেখেন।’ এদিনও ‘ম্যাডাম নারুলা’র পরিচয় স্পষ্ট করতে চান প্রাক্তন পরিবহণমন্ত্রী। এদিন শুভেন্দু বলেন, ‘জানেন তো লোকসভা ভোটের আগে কলকাতা বিমানবন্দরে কে সোনা নিয়ে ধরা পড়েছিল? উনিই ম্যাডাম নারুলা।’ গতকালই তৃণমূল থেকে ইস্তফা দিয়েছিলেন ডায়মন্ড হারবারের বিধায়ক দীপক হালদার। এদিন তিনি বিজেপিতে যোগ দেন। তাছাড়া ফলতার ব্লক সভাপতি ভক্তরাম মণ্ডল, গোসাবার চিত্ত প্রামাণিকের মতো দক্ষিণ ২৪ পরগনার একাধিক তৃণমূল নেতা পদ্ম পতাকা হাতে তুলে নেন। অন্যদিকে, আসন্ন নির্বাচন নিয়ে আজ, মঙ্গলবার দিল্লিতে বিশেষ বৈঠক ডেকেছেন অমিত শাহ। জানা যাচ্ছে এই বৈঠকে উপস্থিত থাকছেন কৈলাস বিজয়বর্গীয়, মুকুল রায়, দিলীপ ঘোষ। এই সভায় বিশেষভাবে ডাকা হয়েছে নব্য বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীকে। কিন্তু দক্ষিণ ২৪ পরগনায় সভা থাকায় তিনি ওই বৈঠকে থাকতে পারবেন না বলে জানিয়েছিলেন। তবে সন্ধ্যার পর তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। অমিত শাহ আলাদাভাবে শুভেন্দুর সাথে দেখা করবেন বলে জানা গিয়েছে।



