খবর লাইভ : আরজি করে দুর্নীতি মামলায় চার্জ গঠন। প্রায় ১০ মাস পরে আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ-সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন করা হলো। সোমবার আলিপুরে সিবিআইয়ের বিশেষ আদালত এই চার্জ গঠন করে।
আলিপুর কোর্টে সোমবার সন্দীপ ঘোষ-সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত আর্জির রায়দান ছিল। তাঁদের কাছে জানতে চাওয়া হয়, তাঁরা দোষী নাকি নির্দোষ? অভিযুক্তরা সকলেই নিজেদের নির্দোষ বলে দাবি করেন আদালতে। এ দিন ৫ জনই সশরীরে হাজিরা দিয়েছিলেন। তবে আদালত সকলেরই মামলা থেকে অব্যাহতি সংক্রান্ত আর্জি খারিজ করে দেন।
আলিপুর সিবিআই আদালতের বিচারক সুজিতকুমার ঝা আরজি করে দুর্নীতি মামলায় এই চার্জ গঠন করেন। আদালত সূত্রে খবর, আরজি করের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপ ঘোষ, তাঁর শাগরেদ দুই ভেন্ডার বিপ্লব সিংহ ও সুমন হাজরা, সন্দীপের অ্যাডিশনাল সিকিউরিটি আফসার আলি খান, হাউস স্টাফ আশিস পান্ডের বিরুদ্ধে চার্জ গঠন হয়।
আগামী ২২ জুলাই প্রথম সাক্ষী হিসেবে অভিযোগকারীর বয়ান নেওয়া হবে বলে আদালত সূত্রে জানা গিয়েছে। এ দিন সন্দীপের আইনজীবী সঞ্জয় দাশগুপ্ত এবং বিপ্লব সিংহের আইনজীবী ইন্দ্রজিৎ অধিকারী বলেন, যে হেতু তদন্ত এখনও চলছে। এই আদালত সিবিআইকে ১ সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই দুর্নীতি মামলার তদন্ত শেষ করে রির্পোট পেশ করার নির্দেশ দিয়েছে।
দুর্নীতি দমন আইনের ৪২০, ৪০৯, ৪৬৭, ৪৬৮ এবং ৭ নম্বর ধারায় মামলা রুজু হয়েছে। আরজি কর হাসপাতালে তিন বছরেরও বেশি সময় ধরে আর্থিক দুর্নীতি চলেছে বলে অভিযোগ রয়েছে। হাসপাতালের প্রাক্তন ডেপুটি সুপারের অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে চিকিৎসার সরঞ্জাম কেনার নামে টেন্ডার দুর্নীতি হয়েছিল আরজি করে। হাসপাতালের প্রাক্তন অধ্যক্ষ সন্দীপের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ‘ঘনিষ্ঠ’দের টেন্ডার পাইয়ে দিয়েছিলেন।
আরজি করে দুর্নীতি মামলায় ২০২৪ সালের ২ সেপ্টেম্বর সন্দীপ ঘোষ-সহ চার জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে সে বছরের ৩ অক্টোবরে গ্রেপ্তার হন আশিস পান্ডে। আরজি কর দুর্নীতি মামলায় চার্জশিট পেশ হয় ২০২৪ সালের ২৯ নভেম্বর।
আরজি করের ডাক্তারি পড়ুয়ার ধর্ষণ ও খুনের মামলার আবহে এই আর্থিক দুর্নীতির মামলা সামনে আসে। আরজি করেরই প্রাক্তন সুপার আখতার আলি এই সন্দীপের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছিলেন। পাশাপাশি সিবিআই-এর কাছে আর্থিক দুর্নীতি মামলায় প্রথম যে নাম উঠে এসেছিল, তা এই সন্দীপেরই। অ্যান্টি কোরাপশন ব্রাঞ্চ যোগাযোগ করে স্পেশাল ক্রাইম ব্রাঞ্চের সঙ্গে। টানা প্রায় ১৫ দিন সন্দীপকে জিজ্ঞাসাবাদের পরে ২০২৪-এর ২ সেপ্টেম্বর গ্রেপ্তার হন সন্দীপ ঘোষ।
পরে এই মামলার সূত্র ধরে বিপ্লব, আফসার এবং সুমনকে গ্রেফতার করেছিলেন তদন্তকারীরা। এই মামলায় শেষ গ্রেফতার করা হয় আশিসকে। প্রসঙ্গত, গত ৯ অগস্ট আরজি কর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চার তলার সেমিনারহল থেকে এক চিকিৎসক-পড়ুয়ার দেহ উদ্ধার হয়। তাঁকে ধর্ষণ এবং খুন করা হয়। ওই ঘটনায় গ্রেফতার হন সিভিক ভলান্টিয়ার সঞ্জয় রায়। সেই আবহেই প্রকাশ্যে আসে আরজি করের আর্থিক দুর্নীতির অভিযোগ। সঞ্জয়কে যাবজ্জীবন দিয়েছে নিম্ন আদালত।




