খবর লাইভ : যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজা উপত্যকায় অনাহার ও অপুষ্টির সঙ্কট ভয়াবহ রূপ নিয়েছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। সংস্থাটি জানিয়েছে, সঙ্কট এমন মাত্রায় পৌঁছেছে যা এখন বিপজ্জনক গতি নিয়ে এগোচ্ছে।
দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকার পর গতকাল রবিবার আবারও আকাশপথে গাজায় ত্রাণ সরবরাহ শুরু হয়েছে। জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির সহায়তায় এই কার্যক্রম শুরু হয়। এরই মধ্যে জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা তিন দফায় ২৫ টন ত্রাণ গাজায় ফেলেছে।
ইজরায়েল জানিয়েছে, গাজার কিছু এলাকায় প্রতিদিন ১০ ঘণ্টার ‘কৌশলগত বিরতি’ তারা পালন করবে, যাতে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো সম্ভব হয়। এই বিরতির আওতায় জাতিসংঘের ত্রাণ সামগ্রীর জন্য করিডরও খোলা হয়েছে বলে দাবি করেছে তারা।
ইজরায়েলের বক্তব্য, গাজাবাসীকে ইচ্ছাকৃতভাবে অনাহারে রাখার অভিযোগ ভিত্তিহীন। তারা বলছে, হামাস এমন অভিযোগের মাধ্যমে ইজরায়েলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে চায়।
তবে পরিস্থিতির ভিন্ন চিত্র উঠে এসেছে স্থানীয় সূত্র ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে। গাজার মধ্যাঞ্চলের নেতজারিন করিডরের সালাহ আল-দিন সড়কে জাতিসংঘের ত্রাণ সামগ্রীর অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ইজরায়েলি বাহিনীর গুলিতে অন্তত ১৫ জন নিহত ও ৫৪ জন আহত হন। আহতদের নুসাইরাতের আল-আওদা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
ইজরায়েলি বাহিনীর দাবি, তাদের সেনাদের দিকে সন্দেহভাজন কিছু ব্যক্তি এগিয়ে আসছিলেন, তাই সতর্কবার্তা হিসেবে গুলি ছোঁড়া হয়। তবে হতাহতের বিষয়ে তারা নিশ্চিত নয় বলে জানিয়েছে।
যুদ্ধবিরতির ঘোষণা কার্যকরের মাত্র এক ঘণ্টার মাথায় গাজার একটি আবাসিক এলাকায় ইজরায়েল বিমান হামলা চালায় বলেও খবর পাওয়া গিয়েছে। গাজায় মানবিক বিপর্যয়ের পটভূমিতে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে ইজরায়েলের ওপর। জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার ফলকার টুর্ক বলেছেন, গাজায় প্রতিদিন আরও ধ্বংস, হত্যা এবং ফিলিস্তিনিদের ওপর অমানবিক আচরণ চলছে। এই যুদ্ধ বন্ধে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, তাঁর প্রশাসন গাজায় ত্রাণ পাঠাতে প্রস্তুত। তবে তিনি এটিও বলেন, গাজার সঙ্কট একটি আন্তর্জাতিক বিষয়। সেই ভাবেই এই সমস্যার মোকাবিলা করা হবে। তবে গাজার এই সব পরিস্থিতির দিকে নজর রাখছে আমেরিকা।




