Special News Special Reports State

ক্লাস চলাকালীন অধ্যাপকদের উপস্থিতিতে যে কোনও ছাত্রীকে উঠিয়ে নিয়ে যেতেন মনোজিৎ, বিস্ফোরক পড়ুয়ারা

0
(0)

খবর লাইভ : কসবা আইন কলেজের ভিতরে গণধর্ষণের অভিযোগে তোলপাড় গোটা রাজ্য। অভিযুক্ত কারা সেই কলেজেরই প্রাক্তন ছাত্র ও কলেজের বর্তমান আইনের পড়ুয়ারা। মারাত্মক এই অভিযোগ ওঠার পর চারিদিকে  প্রতিবাদের ঝড়। আর তদন্ত এগোতেই কেঁচো খুঁড়তে বেরিয়ে আসছে কেউটে। মনোজিতের প্রভাবশালী যোগ, বেপরোয়া হাবভাব, একের পর এক অপরাধের অভিযোগ। সব জেনেশুনেও কলেজ কর্তৃপক্ষের নীরব থাকা। মহিলাদের সম্মানহানি করার একের পর এক অভিযোগ।  রোজই প্রকাশ্যে আসছে, আইন কলেজের প্রাক্তন ছাত্র, টিএমসিপি নেতা মনোজিতের অন্যায় কাজের হাড়হিম করা ভিডিও।

মনোজিতের বিরুদ্ধে অতীতে একাধিক অপরাধমূলক কাজকর্ম নিয়ে একে একে মুখ খুলছেন কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে নিরাপত্তা রক্ষী, শিক্ষক-শিক্ষিকা অনেকেই ।  মনোজিতের বিরুদ্ধে চাঞ্চল্যকর অভিযোগ তুলেছেন, নির্যাতিতার সহপাঠী এবং কসবার আইন কলেজেরই প্রথম বর্ষের আরেক ছাত্রীও। আইন নিয়ে পড়াশোনা করবেন, এই স্বপ্ন নিয়ে, ২০২৪-এ কলেজে ভর্তি হয়েছিলেন সাউথ ক্য়ালকাটা ল কলেজে।  কিন্তু ঢোকার কয়েকদিনের মধ্যেই, মনোজিতদের জন্যই কলেজের ভিতরের পরিবেশ তার কাছে অসহ্য হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ। তারও দাবি, মনোজিত বলেছিলেন, যে, তোমার মধ্যে তো অনেক ট্যালেন্ট আছে, তুমি ইউনিয়ন জয়েন করতে পরো। আমি বলেছিলাম, না, আমার এইসব বিষয়ে কোনও ইচ্ছা নেই। আমি পড়াশোনা করতে এসেছি, আমি পড়াশোনা করব, বাড়ি চলে যাব। তো, উনি, বললেন, ও… ঠিক আছে। দেখে নেব। কোনও কিছুতেই আমি অংশ নিতাম না, আমি যেতামও না। একপ্রকার ক্লাস করতে হয়, ক্লাস হত, তাই যেতাম অ্যাটেনডেন্সের জন্য। ব্যাস, বাড়ি চলে আসতাম।

২০২৩ সালে এরকমই একটি কলেজ পিকনিকে গিয়ে মনোজিৎ মিশ্রর হাতে যৌন নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন কলেজেরই আরেক ছাত্রী।

কলেজেরই অন্য এক ছাত্রীর অভিযোগ, কাউকে কোনও তোয়াক্কা করতেন না মনোজিৎ মিশ্র।  ক্লাস চলাকালীন, অধ্যাপকদের সামনে থেকে যে কোনও কাউকে উঠিয়ে নিয়ে যেতেন। ছাত্রীর কথায়, ‘ক্লাস চলাকালীন উনি (মনোজিৎ মিশ্র) আসতেন। ওঁর চ্যালা-চামুণ্ডারা ছিলেন, তারাও আসতেন। এসে এরকম শুধু হাতের ইশারা করতেন। টিচাররা ওখানেই দাঁড়িয়ে বলত, যাও, তুমি চলে যাও। তোমাকে ডাকছে, তুমি চলে যাও। ব্যাস। কেউ কোনও কথাও বলত না। কেউ কিছু বলতও না। কঠোর থেকে কঠোর টিচারও কিছু বলত না। এসে শুধু হাতের ইশারা করতেন, তাতেই ছাত্রীরা চলে যেত। আজকে যে আমরা মনোজিৎ… এদেরকে বলছি, এদেরকে দোষ দিয়েও লাভ নেই।  আমাদের কলেজ কর্তৃপক্ষ সবকিছুই ওঁদের হাতে ছেড়ে দিয়েছিলেন।

ছাত্রীটি আরও বলেন,  উনি হর্তা-কর্তা বিধাতা বলতে যাকে বোঝায়,  মানে, আপনি স্টুডেন্ট, আপনাকে ঢুকেই বলে দেওয়া হবে ভাই তুই রণে বনে জলে জঙ্গলে যেখানে বিপদে পড়বি, সেখানেই আমার দর্শন পাবি।  যেখানে জীবন গড়ার পাঠ দেওয়া হয়, সেখানেই জীবন নিয়ে কার্যত আতঙ্কে থাকতে হত বলে অভিযোগ করছেন এই ছাত্রী।

এখন গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে যাওয়ার পর এই সমস্ত কুকীর্তি নিয়ে মুখ খুলছেন ছাত্রীরা। তবুও প্রশ্ন উঠেছে, কাদের মদতে এত বেপরোয়া হয়ে উঠেছিলেন মনোজিৎ? যদি আগে থেকেই পুরো বিষয়টি নিয়ে কড়া পদক্ষেপ নিতেন কলেজ কর্তৃপক্ষ, তাহলে গণধর্ষণের মতো এমন একটি ঘটনা এড়ানো যেত।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *