খবর লাইভ : বিজেপির নতুন রাজ্য সভাপতি হিসেবে ইতিমধ্যেই ব্যাটন তুলে নিয়েছেন শমীক ভট্টাচার্য। তার নাম ঘোষণার অনুষ্ঠানে শুভেন্দু অধিকারী সুকান্ত মজুমদাররা উপস্থিত থাকলেও দলের ডাক না পেয় হাজির ছেলে না প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এরপরেই তার রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ এবং দলবদল নিয়ে গোটা রাজ্যজুড়ে জল্পে জল্পনা টঙ্গী আর এসবের মাঝেই সহস্র দিলিপের রহস্যময় উত্তরআমি শত্রু-মিত্রর হিসাব রাখি না, মার্কেটে আছি।
রাজ্য বিজেপির শীর্ষপদে শমীক ভট্টাচার্যের অভিষেক ঘিরে রাজনীতির পারদ চড়ছে। বৃহস্পতিবার সায়েন্স সিটিতে শমীকের সভাপতি হিসেবে আনুষ্ঠানিক দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বঙ্গ বিজেপির অন্দরমহলে জোর আলোচনার জন্ম দিয়েছে, এ কি আরও গভীর গোষ্ঠীকোন্দলের সূচনা?
সূত্রের খবর, দলের দুই প্রভাবশালী গোষ্ঠী সুকান্ত মজুমদার ও শুভেন্দু অধিকারীর অনুগামীরা শমীকের উত্থান ভালো চোখে দেখছেন না। সুকান্তপন্থীরা মনে করছেন, শমীকের নেতৃত্বে তাদের সংগঠনে প্রভাব কমবে এবং বিগত তিন বছরে তৈরি হওয়া নেটওয়ার্ক ছাঁটাইয়ের শিকার হতে পারে। অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারীও অসন্তুষ্ট। কারণ, শমীক তার প্রথম বক্তৃতাতেই সংখ্যালঘুদের সমর্থন চেয়ে শুভেন্দুর হিন্দুত্বকেন্দ্রিক অবস্থান থেকে সরে আসার ইঙ্গিত দিয়েছেন।
এই উত্তাল পরিস্থিতির মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে শমীক ভট্টাচার্য ও প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষের ঘনিষ্ঠতা। দিলীপ নিজেই জানিয়েছেন, সভাপতি পদের মনোনয়ন দেওয়ার আগে শমীক তাঁকে ফোন করেছিলেন এবং তিনি শীঘ্রই নতুন সভাপতিকে শুভেচ্ছা জানাতে যাবেন। এতে রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠছে—শমীক-দিলীপ আঁতাত কি রাজ্য বিজেপির গেমপ্ল্যান পাল্টে দেবে?
শুক্রবার সকালে প্রাতঃভ্রমণের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে পড়েন দিলীপ ঘোষ। তাঁর স্বভাবসিদ্ধ ঢঙে জবাব দিয়ে রাজনীতির উত্তাপ আরও বাড়িয়ে দেন। এক সাংবাদিক তাঁকে প্রশ্ন করেন, “দিলীপ ঘোষ মানেই তো চমক। এবার কি কোনও চমক অপেক্ষা করছে?” জবাবে দিলীপ বলেন, “কল্পনা করতে তো পয়সা লাগে না। অনেকেই কল্পনা করছে। ২১ তারিখ পর্যন্ত ডেট দেওয়া আছে। কিছু একটা মার্কেটে থাকবে, দিলীপ ঘোষ মার্কেটে আছে।”
তিনি আরও যোগ করেন, “আমি শত্রু-মিত্রর হিসাব রাখি না। কাল শত্রু ছিল, আজ বন্ধু, পরশু আবার শত্রু—এভাবে আমি ভাবি না। যারা ভাবে, তাদের সমস্যা আছে। আমার কোনও সমস্যা নেই।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শমীকের সভাপতি হওয়া একদিকে যেমন বিজেপির ভাবমূর্তিতে নতুন দিশা আনার চেষ্টা, অন্যদিকে দলের অভ্যন্তরীণ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকে আরও জটিল করে তুলতে পারে। সামনে পঞ্চায়েত ও লোকসভা ভোট, তার আগে এই দ্বন্দ্ব কী রূপ নেয়, সেটাই এখন দেখার।




