খবর লাইভ : আজ থেকে শুরু হওয়া সংসদের বাদল (Monsoon) অধিবেশনে (লোকসভা ও রাজ্যসভা) প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বক্তৃতা দিয়ে শুভসূচনা করেছেন। তার ভাষণে ‘অপারেশন সিঁদুর’ সহ সাম্প্রতিক সামরিক অভিযানকে কেন্দ্র করে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তুলে ধরা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পশ্চিমবঙ্গের পহেলগাঁওয়ে সন্ত্রাসবাদী গোষ্ঠীর ধরপাকড়-উন্মোচন ও ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিরোধীদের সাংহাইয়ে সবার নজর আছে। তিনি সকল সংসদ সদস্যকে বললেন, ‘দেশের স্বার্থে আপনাদের এই প্রচেষ্টা বিশ্ব দরবারে ভারতের মর্যাদা আরও বাড়িয়েছে’।
প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক মহাকাশ স্টেশনে ভারতের পতাকা উত্তোলনের বিষয়টি তিনি সবার সাথে ভাগ করে নেন। বলেন, এটি ছিল প্রত্যেক ভারতবাসীর জন্য গৌরবের সময়। এর মাধ্যমে বিজ্ঞান ও উদ্ভাবনের শক্তিকে নতুন মাত্রা দিয়েছে ভারত। তিনি বলেন, ২০১৪ সালে দশম বৃহত্তম অর্থনীতি হিসেবে ভারত আজ তৃতীয় বৃহত্তম শক্তি। একটা সময় ছিল, ২০১৪ সালের আগে যখন মুদ্রাস্ফীতি ডবল ডিজিট ছিল। তা হ্রাস পেয়ে ২%-এর আশেপাশে এসেছে। এমনকি, সোশ্যাল সিকিউরিটি স্কিমে ৯০ কোটি মানুষের অন্তর্ভুক্তি নিঃসন্দেহে একটি বৃহৎ সাফল্য।
এরই পাশাপাশি, ‘মেইড-ইন-ইন্ডিয়া’ পণ্য, বিশেষ করে সামরিক সরঞ্জামে, বৈশ্বিক আস্থা বাড়ছে। সেনাবাহিনীর মনোবল বাড়াতে, অধিবেশনে এই বিষয়টি উদযাপনযোগ্য হবে বলেও মন্তব্য করেন।
তিনি বলেন, এই অভিযানে ভারতীয় সেনা নির্ধারিত লক্ষ্য সম্পূর্ণ করেছে। ২২ মিনিটের মধ্যেই সন্ত্রাসবাদীদের ঘাঁটিতে আক্রমণ চালিয়ে সফল প্রমাণ করেছে সেনাবাহিনী তাদের সক্ষমতা। অপারেশন সিঁদুরে ভারতীয় সেনাবাহিনী যে দক্ষতা প্রদর্শন করেছে, তা ভারতীয় জনমানসে নতুন আত্মবিশ্বাস নিয়ে এসেছে।
আরেকটি গৌরবজনক সূচক হিসেবে করোনার পর নকশালবাদ কঠিনভাবে মোকাবেলা করে ১০০ গ্রাম নকশাল মুক্ত হয়েছে। তাছাড়া, কৃষি অভিযোজন ও জলসংরক্ষণে গত দশ বছরের তুলনায় তিন গুণ বেড়েছে।
তার স্পষ্ট কথা, অপারেশন সিঁদুরের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীদের দ্রুত নির্মূল ও আন্তর্জাতিক স্তরে পাকিস্তান-সমর্থিত সংগঠনগুলির আড়াল ফুটে উঠেছে। সুরক্ষা ও পুষ্টির ক্ষেত্রে ভরসা বাড়ছে। নকশাল মুক্ত গ্রাম, জল সংরক্ষণ ও কৃষিক্ষেত্রে নজিরবিহীন উন্নতি।
আজকের অধিবেশন প্রধানত দেশব্যাপী এক ‘বিজয়োৎসব’ এর রূপ নিয়েছে। প্রতিটি দিক থেকেই ভারত এগিয়ে যাচ্ছে শান্তি, প্রগতি আর গৌরবের পথে।




