খবর লাইভ : ২০২১ সালের ভোট পরবর্তী হিংসায় নিহত বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকার খুনের মামলায় নতুন মোড়। সোমবার শিয়ালদহ আদালতে দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট পেশ করল সিবিআই, যেখানে নাম জড়িয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের এক বিধায়ক ও দুই কাউন্সিলরের।
চার্জশিটে বেলেঘাটা কেন্দ্রের তৃণমূল বিধায়ক পরেশ পাল, কলকাতা পুরসভার দুই কাউন্সিলর স্বপন সমাদ্দার ও পাপিয়া ঘোষকে অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করেছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। মোট ১৮ জনের বিরুদ্ধে এই নতুন চার্জশিটে অভিযোগ আনা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২০২১ সালের ২ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে পড়ে রাজনৈতিক অস্থিরতা। সেই সময় কাঁকুড়গাছির বাসিন্দা বিজেপি কর্মী অভিজিৎ সরকারকে পিটিয়ে ও গলায় কেবল টিভির তার পেঁচিয়ে খুন করা হয় বলে অভিযোগ। একই ঘটনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন অভিজিতের দাদা বিশ্বজিৎ সরকার ও মা মাধবী দেবী।
প্রাথমিকভাবে তদন্তের দায়িত্বে ছিল নারকেলডাঙা থানার পুলিশ। তবে পরে কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে তদন্তভার সিবিআইয়ের হাতে যায়। প্রথম পর্যায়ে পুলিশ ১৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দেয়। এরপর ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে সিবিআই প্রথম অতিরিক্ত চার্জশিট জমা দেয়, যেখানে ২০ জনের নাম ছিল। এবার দ্বিতীয় অতিরিক্ত চার্জশিট জমা পড়ল, যাতে নতুন করে রাজনীতিকদের নাম জড়াল।
এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কয়েকজন অভিযুক্ত গ্রেফতার হলেও অনেকেই অধরা ছিলেন। সম্প্রতি, মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত অরুণ দে-কে তেঘরিয়া থেকে গ্রেফতার করেছে সিবিআই।
এ প্রসঙ্গে বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার বলেন, আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছিলাম এই হত্যাকাণ্ডে তৃণমূলের শীর্ষ নেতারা জড়িত। অবশেষে সিবিআই চার্জশিটে তাদের নাম দেখে কিছুটা হলেও শান্তি পেলাম।
অন্যদিকে, অভিযুক্তদের অন্যতম কলকাতা পুরসভার মেয়র পারিষদ স্বপন সমাদ্দার এই অভিযোগকে ‘রাজনৈতিক চক্রান্ত’ বলে দাবি করেছেন। তার কথায়, ভোটের আগে আমাদের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অভিযোগ আনা হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানাই।
এখন দেখার বিষয়, এই নতুন চার্জশিট মামলার গতিপ্রকৃতি কতটা বদলায় এবং আদালত ভবিষ্যতে কী সিদ্ধান্ত নেয়।




