International Special News Special Reports

পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে ইরানে আবার বোমাবর্ষণ হবে, খামেনিকে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

0
(0)

খবর লাইভ : ইজরায়েলের সঙ্গে টানা ১২ দিনের যুদ্ধে ইরান জয় পেয়েছে, এমন দাবি করেছিলেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তার এই দাবির তীব্র সমালোচনা করেছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। হুমকি দিয়ে তিনি বলেছেন, পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করলে তাঁর দেশ ইরানে আবার বোমাবর্ষণ করবে।

ট্রাম্পের নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে ইরানের সর্বোচ্চ নেতাকে ফের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তিনি খামেনিকে ‘এক সহিংস ও অপমানজনক’ মৃত্যুর হাত থেকে বাঁচিয়েছেন। ট্রাম্প আরও লেখেন, আগের দিন এক বক্তব্যে ইরানের ‘বিজয়’ দাবি করার সময় খামেনি ‘নির্লজ্জ ও বোকামিপূর্ণ’ মিথ্যা বলেছেন।

গত সপ্তাহের শুরুতে ইরান ও ইজরায়েলের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়। এর আগে ইরানের ফোরডো, নাতানজ ও ইস্পাহান পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে বোমা হামলা চালায় আমেরিকা। জবাবে কাতারে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় তেহরান।

নিজেদের তিনটি পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলার জবাবে কাতারে মার্কিন ঘাঁটিতে পাল্টা হামলা চালিয়ে তেহরান মূলত ওয়াশিংটনের গালে ‘সজোরে চড়’ মেরেছে, ১২ দিনের সংঘাত বন্ধের পর দেওয়া প্রথম ভিডিও বার্তায় এমন কথাই বলেন খামেনি। জবাবে গতকাল শুক্রবার দেওয়া পোস্টে ট্রাম্প জানান, ‘চূড়ান্ত কিছু করা’ থেকে ইজরায়েলকে সরে আসতে বলেছেন তিনি।

খামেনির উদ্দেশে ট্রাম্প লেখেন, ‘তাঁর দেশ ধ্বংস হয়ে গেছে। তাঁর তিনটি ক্ষতিকর পারমাণবিক কেন্দ্র ধ্বংস হয়ে গেছে। আমি এটাও জানতাম যে তিনি কোথায় আশ্রয় নিয়েছেন। আমি ইজরায়েল ও বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দিয়ে তাঁর জীবন শেষ করে দিইনি।’

মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিয়ে তুমুল বিতর্ক শুরু হয়েছে। এসব হামলার ফলাফল ট্রাম্প প্রশাসন যেভাবে চিত্রায়িত করার চেষ্টা করছে; তার সঙ্গে ফাঁস হওয়া মার্কিন গোয়েন্দা প্রতিবেদনের বিস্তর ফারাক দেখা গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদনে ইঙ্গিত করা হয়েছে, মার্কিন হামলা ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে মাত্র কয়েক মাস পিছিয়ে দিয়েছে।

গতকাল হোয়াইট হাউসে ট্রাম্পের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল, তেহরানের পরমাণু অস্ত্র তৈরির আকাঙ্ক্ষা যদি দমানো না যায়, তাহলে তিনি নতুন করে হামলার কথা বিবেচনা করবেন কি না? মার্কিন প্রেসিডেন্ট দ্রুত জবাব দেন, ‘অবশ্যই। এটি প্রশ্নাতীত।’

ট্রাম্প আরও আশা প্রকাশ করেন, আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কিংবা অন্য কোনও স্বীকৃত সংস্থার পর্যবেক্ষকদের নিজেদের পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের সুযোগ দেবে তেহরান।

তবে আইএইএর সঙ্গে সহযোগিতার সম্পর্কে স্থগিতের বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। নিজেদের পারমাণবিক স্থাপনায় মার্কিন হামলার সরাসরি প্রতিক্রিয়ায় ইরান এমন উদ্যোগ নিয়েছে। গতকাল ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি ইঙ্গিত দিয়েছেন, পারমাণবিক কেন্দ্র পরিদর্শনের যে কোনও অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করতে পারে তেহরান।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *