খবর লাইভ : কাতারে মার্কিন সেনাঘাঁটিতে প্রত্যাঘাত করে আসলে আমেরিকার গালে সপাটে চড় মারা হয়েছে। যুদ্ধবিরতির পর প্রথমবার মুখ খুলে হুঙ্কার দিলেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি। পাশাপাশি, তাঁর স্বগর্বে ঘোষণা, ইজরায়েল-ইরান যুদ্ধে তেহরান জয়লাভ করেছে।
এক্স হ্যান্ডেলে খামেনি লেখেন, ‘আমেরিকার আগ্রাসনকে কড়া হাতে মোকাবিলা করেছে ইরান। এই যুদ্ধে তারা সরাসরি প্রবেশ করেছিল, কারণ আমেরিকা মনে করেছিল যে তারা সেরকম না করলে ইহুদি শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যাবে। দুর্ভাগ্যবশত এই যুদ্ধ থেকে তারা কিছুই অর্জন করতে পারেনি। এখানেও আমাদের ইসলামী প্রজাতন্ত্র বিজয়ী হয়েছে। এর মাধ্যমেই আমেরিকার গালে সপাটে চর মারা হয়েছে।’ একইসঙ্গে তিনি বলেন, “ইরানের পারমাণবিক কেন্দ্রগুলিতে আক্রমণ করেও আমেরিকা কিছুই অর্জন করতে পারেনি। বড়সড় কোনও ক্ষতি আমাদের হয়নি।”
১৩ জুন ইরানে হামলা চালায় ইজরায়েল। সেই সময় থেকেই প্রত্যাঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। একদিন পর সেই আশঙ্কা সত্যি করে ইজরায়েলে পালটা হামলা চালায় ইরান। ইরানের সামরিক ঘাঁটি এবং পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলা চালানো হয়। মৃত্যু হয় ইরান সেনার চিফ অফ স্টাফ মহম্মদ বাঘেরি, রেভোলিউশনারি গার্ডসের কমান্ডার হোসেন সালামি, ইরানের এমার্জেন্সি কমান্ডের কমান্ডার এবং দুই শীর্ষ সেনা আধিকারিকের। প্রাণ হারান ইরানের প্রাক্তন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা আলি শামখানিরও। এছাড়াও পারমাণবিক গবেষণাকারী অন্তত ১০জন বিজ্ঞানীর মৃত্যু হয়ছে বলে জানিয়েছে ইরান। ইরানের প্রত্যাঘাতে বারবার কেঁপে ওঠে তেল আভিভ-সহ গোটা ইজরায়েল।
পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয় ২২ জুন। ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধে সরাসরি জড়িয়ে পড়ে আমেরিকা। ইরানের তিন পারমাণবিক কেন্দ্রে হামলা চালায় মার্কিন বায়ুসেনা। জবাবে মিসাইল ছুড়ে ইজরায়েলকে ঝাঁজরা করে দেয় তেহরান। আমেরিকাকে শিক্ষা দিতে সিরিয়া-কাতার-ইরাকের মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলা চালায় ইরান। এর মধ্যেই সোমবার ভোর রাতে ইরান-ইজরায়েলের যুদ্ধবিরতির কথা ঘোষণা করেন ট্রাম্প। আর সংঘর্ষবিরতির পর এই প্রথমবার মুখ খুললেন খামেনি।




