Special News Special Reports State

ডিএ পাওয়া বিশ বাঁও জলে, ২০১৬ সালের আগের কর্মীদের বেতনের নির্ভুল তথ্য নেই রাজ্যের কাছে

0
(0)

খবর লাইভ : ডিএ এরিয়ার মামলায় ফের তৈরি হল জটিলতা। সুপ্রিম কোর্টের ছয় সপ্তাহের সময়সীমাশেষ হতে চলেছে জুনের শেষ সপ্তাহে। কিন্তু এখন শোনা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার পুরনো বেতন সংক্রান্ত তথ্য খুঁজে পেতে হিমশিম খাচ্ছে। ফলে বকেয়া মহার্ঘ ভাতা (DA) দেওয়ার প্রক্রিয়া নতুন করে প্রশ্নের মুখে।
রাজ্য সরকারের দাবি, ২০১৬ সালের আগের কর্মীদের বেতনের নির্ভুল তথ্য নেই। কারণ, তখন সব বেতন সংক্রান্ত কাজ হতো অফলাইনে, হাতে-কলমে।

২০১৫-১৬ সালে HRMS (Human Resource Management System) চালু হওয়ার পর থেকে বেতন তথ্য ডিজিটালভাবে সংরক্ষণ শুরু হয়। ফলে ২০০৯ সালের জুলাই থেকে ২০১৫-১৬ পর্যন্ত বকেয়া হিসেব করতে গেলে প্রায় ৮-১০ লক্ষ কর্মীর সার্ভিস বুক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যা বিশাল পরিমাণ কাজ ও সময়সাপেক্ষ।

সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিল, রাজ্য সরকারকে ছয় সপ্তাহের মধ্যে কর্মীদের ২৫% ডিএ বকেয়া মেটাতে হবে। সেই সময়সীমা শেষ হচ্ছে ২৬-২৭ জুন। কিন্তু রাজ্যের আর্থিক অক্ষমতা এবং তথ্য ঘাটতির কারণে সরকার নাকি আবারও সুপ্রিম কোর্টে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। জানা যাচ্ছে, রাজ্য সরকার ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত সময় চাইতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে কর্মীদের মধ্যে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বহু অবসরপ্রাপ্ত কর্মী এবং যাঁরা অবসর নিতে চলেছেন, তাঁরা এই বকেয়া না পাওয়ায় আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।
কর্মীদের আশঙ্কা বকেয়া পেতে আরও দেরি হতে পারে, আইনি প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত হবে, অসন্তোষ ও প্রতিবাদ বাড়তে পারে।

একদিকে সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ, অন্যদিকে রাজ্যের অজুহাত— এই দুইয়ের মাঝে কর্মীদের DA Arrear পাওয়ার স্বপ্ন আরও অনিশ্চিত হয়ে উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, যতদিন না রাজ্য সরকার সমস্ত তথ্য ডিজিটালভাবে একত্র করে উপস্থাপন করতে পারছে, ততদিন বকেয়া প্রদান কার্যত সম্ভব নয়।

এখন সবকিছু নির্ভর করছে সুপ্রিম কোর্টের পরবর্তী রায় ও রাজ্য সরকারের অবস্থানের উপর। যদি আদালত সময়সীমা বাড়িয়ে দেয়, তাহলে কর্মীদের আরও অপেক্ষা করতে হবে। না হলে, আদালতের অবমাননার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

যাই হোক, এটা স্পষ্ট যে, DA Arrear সংক্রান্ত সমস্যা দ্রুত সমাধান না হলে রাজ্য সরকারি কর্মীদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়ে যাবে এবং তা প্রশাসনের উপর চাপ বাড়াতে বাধ্য।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Tagged

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *