International Special News Special Reports

ইরানে সফল হামলার প্রশংসায় পঞ্চমুখ ট্রাম্প, ইজরায়েলকে লক্ষ্য করে পাল্টা আক্রমণ ইরানের

0
(0)

খবর লাইভ: ইজরায়েলের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ চালিয়েছে ইরান। সোমবার সকালে ইজরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায় এবং সাইরেন বেজে ওঠে। ইজরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানায়, ইরানের দিক থেকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ধেয়ে আসে। যদিও আইডিএফ-এর একটি অভ্যন্তরীণ সূত্র দাবি করেছে, ইরান মাত্র একটি ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছিল, যা আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিহত করা হয়।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লা আলি খামেনি আবারও ইজরায়েলের বিরুদ্ধে কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সামাজিক মাধ্যমে এক পোস্টে বলেন, “শাস্তির প্রক্রিয়া চলছে। জায়নবাদী শত্রুরা বড় ভুল করেছে এবং তাদের এর মূল্য দিতেই হবে।”

পরিস্থিতি নিয়ে দ্রুত কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার রাশিয়ার রাজধানী মস্কো রওনা হন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে অংশ নিতে। এর আগে ইস্তানবুলে এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি বলেন, “রাশিয়া আমাদের কৌশলগত মিত্র। যে কোনও সংকটে আমরা একসঙ্গে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি।”

২০১৫ সালের ‘জয়েন্ট কমপ্রিহেনসিভ প্ল্যান অব অ্যাকশন’ (জেসিপিওএ)-এর অন্যতম স্বাক্ষরকারী ছিল রাশিয়া। সেই সূত্র ধরে ইরান-রাশিয়া সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে বলে মত বিশ্লেষকদের।

ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু প্রকল্পে আমেরিকার সাম্প্রতিক হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, “আমেরিকা আন্তর্জাতিক আইনকে অবজ্ঞা করেছে। শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচির ওপর আক্রমণ চালিয়ে তারা প্রমাণ করেছে, তারা কোনও আন্তর্জাতিক নীতি মানে না।”

এদিকে, ইরান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে, তারা এই আগ্রাসনের বিরুদ্ধে পূর্ণশক্তি নিয়ে প্রতিরোধ করবে। রেভলিউশনারি গার্ডের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয়, “তেহরানের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, প্রয়োজনে তা প্রয়োগ করা হবে। আমেরিকার জন্য কোনও পালানোর পথ খোলা নেই।”

মার্কিন হামলার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছে রাশিয়া, চী

চিনসহ একাধিক দেশ। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে। এটি দায়িত্বজ্ঞানহীন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকিস্বরূপ।”

পুতিন ঘনিষ্ঠ রুশ রাজনীতিক দিমিত্রি মেদভেদেভ বলেন, “ইরান তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি চালিয়ে যাবে। এমনকি কিছু দেশ ইরানকে পারমাণবিক প্রযুক্তি সরবরাহ করতেও প্রস্তুত।” চিনও আমেরিকার ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেছে, “এই হামলা আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের স্পষ্ট উদাহরণ।”

ইরান জানিয়ে দিয়েছে, তারা কোনওভাবে পিছু হটবে না। বরং প্রতিশোধ নেওয়ার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে তারা। আয়াতোল্লা খামেনির পরামর্শদাতা আলি আকবর ভেলায়াতি বলেন, “এই হামলার পর আমেরিকার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আর সম্ভব নয়। যারা মার্কিন প্রেসিডেন্টের পক্ষে অবস্থান নেবে, তারাও আমাদের লক্ষ্যবস্তু হবে।”

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্যে বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকি রয়েছে।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *