International Special News Special Reports

কাতারের সেনাঘাঁটি থেকে রাতারাতি সরানো হলো ৪০ মার্কিন যুদ্ধবিমান

0
(0)

খবর লাইভ : সেন্সর-সহ সৌরচিত্র বিশ্লেষণে দেখা গিয়েছে যে, কাতারের আল উদেইদ বিমানবেস থেকে বেশ কয়েকটি মার্কিন যুদ্ধবিমান (এফ-১৫, এফ-১৮, বি-৫২ ইত্যাদি) সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এই পদক্ষেপকে মার্কিন কর্তৃপক্ষ একটি প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে, যা ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে এই বিমানগুলোকে সুরক্ষিত রাখার উদ্দেশে নেওয়া হয়েছে  ।

স্যাটেলাইটের ছবি বিশ্লেষণ করে দেখা গিয়েছে, আল উদেইদান ঘাঁটি থেকে যুদ্ধবিমান সরানো হচ্ছে। জানা গিয়েছে, কাতার, কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত জোট হিসেবে আমেরিকাকে ইরানের বিরুদ্ধে তাদের আকাশসীমা বা বেস ব্যবহার না করার নির্দেশ দিয়েছে । এইভাবে বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
আমেরিকা মধ্যপ্রাচ্যে নিয়োজিত বিভিন্ন রণতৎপরতা বজায় রাখতে এয়ার স্ট্রাইক পজিশনগুলো স্থানান্তরিত করছে। তবে বাড়ছে ইরান-ইজরায়েল উত্তেজনা বৃদ্ধির আশঙ্কা। মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ অতিরিক্ত এয়ারশিপ মোতায়েন এবং আরও বেশি নজরদারি শুরু করেছে  ।

জানা গিয়েছে, ইরান–ইজরায়েলের উত্তেজনার মধ্যে, ইরানের সম্ভাব্য হামলা থেকে প্রতিরক্ষার উদ্দেশে বিমানের এই অবস্থান পরিবর্তন। কাতার এবং অঞ্চলীয় অন্যান্য বন্ধু দেশ মার্কিন যুদ্ধ বিমান ব্যবহার না করার বিষয়ে সঙ্কোচ প্রকাশ করেছে। এই পদক্ষেপ মৌলিকভাবে কাঠামোগত সমর্থনের সীমা প্রদান করছে।

জর্ডান, ডাইজো গার্সিয়া, ও অন্যান্য স্ট্র্যাটেজিক পয়েন্টে প্রতিরক্ষা অব্যাহত রাখতে এই সিদ্ধান্ত। এর ফলে উত্তেজনা আরও বেড়ে গেল। কারণ , আমেরিকা আরও বিমান ও ড্রোন মোতায়েন করতে পারবে। গত দুই সপ্তাহে এই বায়ুসেনা ঘাঁটি থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে অন্তত ৪০টি মার্কিন যুদ্ধবিমান। স্যাটেলাইট রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ৫ জুন থেকে ১৯ জুন এই সময়ের মধ্যে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে যুদ্ধবিমানগুলি। সূত্রের খবর, গত ৫ জুন আল উদেইদ বায়ুসেনা ঘাঁটিতে সি-১৩০ হারকিউলিস বিমান-সহ ৪০টির বেশি যুদ্ধবিমান দাঁড়িয়ে ছিল। ১৯ জুনের উপগ্রহ চিত্রে দেখা যায় সেখানে দাঁড়িয়ে রয়েছে মাত্র ৩টি বিমান।

রিপোর্ট বলছে, ওই সেনা ঘাঁটি থেকে সরানো হয়েছে বিমানে জ্বালানি ভরার জন্য ব্যবহৃত ২৭টি কেসি ৪৬এ পেগাসাস বিমান ও কেসি-১৩৫ স্ট্রেটোট্যাঙ্কারস বিমান। এগুলি ১৫ থেকে ১৮ জুলাইয়ের মধ্যে ইউরোপে রওনা দিয়েছে। যার মধ্যে ২৫টি বিমান কাতারে ফেরেনি। পরে দুটি বিমান ইউরোপ থেকে ওই ঘাঁটিতে ফেরে। এছাড়াও এই তালিকায় রয়েছে অন্যান্য যুদ্ধবিমান।

ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, ইরান যদি আমেরিকার উপর হামলা চালায় তাহলে ইরানকে এমন জবাব দেওয়া হবে যা তারা স্বপ্নেও ভাবতে পারবে না। তবে হুঁশিয়ারি দিলেও ঝুঁকি নিতে চাইছে না ইরান। গত বৃহস্পতিবার কাতারের মার্কিন দূতাবাসের তরফে চূড়ান্ত সতর্কতা জারি করা হয়েছে। নিজেদের সেনা ঘাঁটির সমস্ত কর্মীদের সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। তবে এতগুলি বিমান কাতার থেকে ইউরোপে নিয়ে যাওয়ার নেপথ্যে কুইঙ্গিত দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *