খবর লাইভ : কলকাতা জেলা সিপিএমের নতুন সম্পাদকমণ্ডলী গঠনের প্রক্রিয়ায় প্রবীণ নেত্রী রূপা বাগচীকে বাদ দেওয়া নিয়ে দলের মধ্যে তীব্র অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। রূপা বাগচী, যিনি সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য, দীর্ঘদিন ধরে কলকাতা পুরসভায় বিরোধী দলনেত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন এবং মানিকতলা কেন্দ্র থেকে ২০০৬ সালে বিধায়ক নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাঁকে জেলা সম্পাদকমণ্ডলী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্তে দলের অভ্যন্তরে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
সূত্রের খবর, জেলা সম্পাদক কল্লোল মজুমদার বৈঠকে যুক্তি দেন যে রূপা ‘অসুস্থ’। তবে, এই যুক্তি নিয়ে দলের মধ্যে প্রশ্ন উঠেছে, কারণ চার মাস আগে রাজ্য কমিটি তাঁকে দায়িত্ব দিয়েছিল, এবং সাম্প্রতিক অসুস্থতার কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া কি যুক্তিযুক্ত? এছাড়া, রূপা সম্প্রতি কয়েক দিন অসুস্থ ছিলেন এবং সেই সময় ছুটিও নিয়েছিলেন। তবে, ছুটির কারণে তাঁকে বাদ দেওয়া হবে, এমন ধারণা দলের অনেক নেতার মধ্যেও ছিল না।
কলকাতা জেলা সিপিএমে গোষ্ঠীকোন্দল দীর্ঘদিনের, এবং রূপা বাগচী কখনোই নিরপেক্ষ অবস্থান নেননি। তিনি নারীনিগ্রহের অভিযোগে সরব হয়েছিলেন, যা দলের অভ্যন্তরে সমীকরণকে প্রভাবিত করেছে। এছাড়া, অবসরপ্রাপ্ত নেতাদের সম্পাদকমণ্ডলীতে সরাসরি অন্তর্ভুক্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
রূপা বাগচীকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিম ভালোভাবে নেননি। সূত্রের খবর, তিনি জবাবি ভাষণে এক প্রকার ইঙ্গিত দিয়ে বলেছেন, ‘অসুস্থ হবেন না। হলেই কিন্তু বাদ!’
এই ঘটনা সিপিএমের অভ্যন্তরীণ অস্থিরতা এবং নেতৃত্বের সংকটের ইঙ্গিত দেয়। দলের শীর্ষ নেতৃত্বের উচিত এই সংকট সমাধানে উদ্যোগী হওয়া, যাতে দলের ঐক্য বজায় থাকে এবং ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি এড়ানো যায়।




