খবর লাইভ : ভারতে ইলন মাস্কের স্টারলিঙ্কের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা চালু হতে চলেছে। ভারতের টেলিকম মন্ত্রক সম্প্রতি স্টারলিঙ্ককে বাণিজ্যিক স্যাটেলাইট কমিউনিকেশন পরিষেবা চালুর জন্য প্রয়োজনীয় লাইসেন্স প্রদান করেছে। এই অনুমোদনটি ২০২২ সাল থেকে চলমান অপেক্ষার পর এসেছে এবং এটি দক্ষিণ এশিয়ায় স্টারলিঙ্কের সম্প্রসারণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
স্টারলিঙ্কের এই লাইসেন্স পাওয়ার ফলে এটি ভারতে বাণিজ্যিকভাবে স্যাটেলাইট ইন্টারনেট পরিষেবা প্রদানকারী তৃতীয় সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করতে যাচ্ছে। এর আগে ইউটেলস্যাটের ওয়ানওয়েব এবং রিলায়েন্স জিও এই ধরনের অনুমোদন পেয়েছিল।
স্টারলিঙ্কের সেবা মূলত ‘লো আর্থ অরবিট’ (LEO) স্যাটেলাইটের মাধ্যমে প্রদান করা হয়, যা পৃথিবী থেকে ১৬০ থেকে ২০০০ কিলোমিটার উচ্চতায় অবস্থান করে। এই স্যাটেলাইটগুলোর মাধ্যমে প্রত্যন্ত অঞ্চলেও উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব। বর্তমানে স্টারলিঙ্কের অধীনে ৬,৭৫০টি স্যাটেলাইট রয়েছে এবং সারা বিশ্বে লক্ষ লক্ষ মানুষ এই পরিষেবা ব্যবহার করছেন।
ভারতে স্টারলিঙ্কের সেবা চালু হতে গেলে আরও কিছু প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে, যেমন:
ভারতের মহাকাশ নিয়ন্ত্রক সংস্থা থেকে অতিরিক্ত অনুমোদন গ্রহণ।
স্পেকট্রাম অধিগ্রহণ।
গ্রাউন্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার স্থাপন।
কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া।
এই প্রক্রিয়াগুলো সম্পন্ন হতে কয়েক মাস সময় লাগতে পারে।
স্টারলিঙ্ক ইতোমধ্যে ভারতের শীর্ষস্থানীয় টেলিকম সংস্থা জিও এবং এয়ারটেলের সঙ্গে অংশীদারিত্ব চুক্তি করেছে। এই চুক্তির মাধ্যমে স্টারলিঙ্কের সরঞ্জাম ভারতের বাজারে পৌঁছানো এবং বিক্রি করা হবে। যদিও এই সংস্থাগুলো স্টারলিঙ্কের প্রতিযোগী, তবে তারা স্টারলিঙ্কের সরঞ্জাম বিক্রির মাধ্যমে সহযোগিতা করছে।
ভারতের স্যাটেলাইট ইন্টারনেট বাজার ২০৩০ সালের মধ্যে ১.৯ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে। স্টারলিঙ্কের এই প্রবেশের ফলে বাজারে প্রতিযোগিতা বৃদ্ধি পাবে এবং গ্রাহকদের জন্য উন্নত সেবা নিশ্চিত হবে।
স্টারলিঙ্কের এই পদক্ষেপ ভারতের ডিজিটাল বিভাজন কমাতে এবং প্রত্যন্ত অঞ্চলে ইন্টারনেট পরিষেবা পৌঁছে দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।




