খবর লাইভ : মেসির আগমনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হল। শনিবার (১৩ ডিসেম্বর) বেলা সাড়ে এগারোটা নাগাদ বিবেকানন্দ যুবভারতী ক্রীড়াঙ্গনে এসেছিলেন মেসি। তাঁকে দেখার জন্য ভিড় উপচে পড়েছিল। এমনকী স্টেডিয়ামেও লোকজন ঢুকে পড়েছে। একাধিকবার মাঠ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হলেও কোনও লাভ হয়নি। শেষপর্যন্ত এই অবস্থা দেখে রীতিমতো বিরক্ত হন মেসি। তিনি ১০ মিনিটের মধ্যে মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান।
এই ঘটনার পর গোটা যুবভারতী স্টেডিয়াম কার্যত ক্ষোভে ফেটে পড়ে। একের পর এক জলের বোতল উড়ে আসতে শুরু করে মাঠের মধ্যে। এমনকী, অনেকে বসার আসনও ভাঙচুর করতে শুরু করেছেন। গোটা স্টেডিয়ামে কার্যত অগ্নিগর্ভ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
মেসি যখন মাঠে পা রাখেন সেইসময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন ক্রীড়ামন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস। সঙ্গে ছিলেন উদ্যোগপতি শতদ্রু দত্ত। মেসিকে দেখার বেশকিছু ‘ভিআইপি’ সমর্থক মাঠের মধ্যে ঢুকে পড়েন। তাঁরা মেসিকে কার্যত ঘিরে রাখেন। সেকারণে যাঁরা গ্যালারিতে ছিলেন, তাঁরা কিছুই দেখতে পাচ্ছিলেন না। এমন সময় শতদ্রু দত্ত অনুরোধ করেন, সমর্থকরা যেন মাঠ ছেড়ে বেরিয়ে যান। কিন্তু, কেউই সেকথায় কর্ণপাত করেননি। এরপর পুলিশের কাছে অনুরোধ করা হয়, তাঁরা যেন গোটা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। কিন্তু, পুলিশও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারেনি। এরপর মেরেকেটে ২০ মিনিট মাঠে ছিলেন মেসি। তারপর এই বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি দেখে তিনিও রীতিমতো বিরক্ত হন। শেষপর্যন্ত নিজের গাড়িতে চেপে বেরিয়ে যান।
কিছুক্ষণের মধ্যে পরিস্থিতি আরও গুরুতর হয়ে ওঠে। গ্যালারি থেকে কার্যত লাফ দিয়ে সমর্থকরা মাঠের মধ্যে নেমে আসেন। শুরু হয় ভাঙচুরের পালা। একের পর এক চেয়ার উড়ে আসতে শুরু করে। ভেঙে ফেলা হয় ক্যানোপি।
মাঠের মধ্যে সমর্থকরা ঢুকে তাণ্ডবনৃত্য শুরু করেন। কেউ তোলেন সেলফি, কেউবা মাঠে শুয়ে গড়াগড়ি খান।
মোটের উপর এই ঘটনা যে কলকাতা ফুটবলে এটা অবশ্যই একটি কলঙ্কিত ঘটনা হিসেবে লেখা হয়ে থাকবে।



