খবর লাইভ : রাশিয়ার একাধিক সামরিক বিমানঘাঁটিতে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার পর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির দাবি করেছে কিয়েভ। তবে সেই দাবি নস্যাৎ করে রাশিয়ার বক্তব্য, বিমানগুলো ধ্বংস হয়নি, কেবলমাত্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং দ্রুত সেগুলোর মেরামতের কাজ শুরু হবে।
গত ১ জুন, রবিবার দুপুরে রাশিয়ার অন্তর্গত অন্তত চারটি সামরিক ঘাঁটিতে আঘাত হানে ইউক্রেনের ড্রোন। ইরকুটস্ক, ওলেনিয়া, ইভানোভো এবং দিয়াগিলোভো বিমানঘাঁটিতে এই হামলা চালানো হয়। রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রকও এই হামলার সত্যতা স্বীকার করেছে। তারা জানিয়েছে, মুরমানস্ক, ইরকুটস্ক, ইভানোভো, রিয়াজান এবং আমুর, এই পাঁচটি অঞ্চলে ড্রোন হামলা হয়। তবে মুরমানস্ক ও ইরকুটস্ক বাদে বাকি এলাকাগুলোতে রুশ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ড্রোন প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে মস্কো।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জ়েলেনস্কির সরকার এই হামলাকে ‘বড় সাফল্য’ হিসেবে বর্ণনা করেছে। বিভিন্ন সূত্রের বরাতে জানা যাচ্ছে, অন্তত ৪০টি রুশ বিমান এই হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিয়েভের দাবি, তাদের ড্রোন হামলায় ১১টি বিমান পুরোপুরি ধ্বংস হয়েছে।
তবে এই দাবিকে খণ্ডন করেছেন রাশিয়ার উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। বৃহস্পতিবার রুশ সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানগুলো ধ্বংস হয়ন, শুধু ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেগুলো শীঘ্রই মেরামত করা হবে।”
তিনি আরও বলেন, “এই হামলার পর কিয়েভের যে প্রতিক্রিয়া ও দাবি অতিরঞ্জিত। বাস্তবে বড় কোনও ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের প্রকাশিত তথ্য থেকেই তা স্পষ্ট।”
এদিকে হামলার ঘটনা নিয়ে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়াও দেখা দিয়েছে। রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সহকারী ইউরি উশাকভ জানিয়েছেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে ফোনালাপে এই হামলার প্রসঙ্গ উঠেছিল। পুতিন জানতে চান, কেন এই বিষয়ে ওয়াশিংটন নিশ্চুপ। ট্রাম্প নাকি জানিয়েছেন, কিয়েভের হামলার পরিকল্পনার বিষয়ে আমেরিকার কোনও পূর্বজ্ঞান ছিল না।
উল্লেখযোগ্যভাবে, এই ড্রোন হামলা রাশিয়ার অভ্যন্তরে গভীরভাবে প্রবেশ করে চালানো হয়, যা রুশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে আন্তর্জাতিক মহলে।




