খবর লাইভ : প্রতিবেশী রাষ্ট্র বাংলাদেশে হিন্দুসহ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ক্রমবর্ধমান নৃশংসতা ও বেলাগাম হিংসার ঘটনায় এবার মহম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকারকে চরম বার্তা দিল ভারত। গত এক মাসে অন্তত ৫ জন হিন্দুকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা এবং অসংখ্য মন্দির ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুরের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ভারতের বিদেশমন্ত্রক। দিল্লির তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, মৌলবাদে লাগাম টেনে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ইউনূস প্রশাসনকে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ করতে হবে।
সংখ্যালঘুদের ওপর বাড়তে থাকা এই পরিকল্পিত হামলার প্রেক্ষিতে শুক্রবার বিদেশমন্ত্রকের নিয়মিত সাংবাদিক বৈঠকে সুর চড়ান মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল। তিনি বলেন, আমরা বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর উগ্রপন্থীদের হামলার এক উদ্বেগজনক প্রবণতা বারবার লক্ষ্য করছি। তাঁদের বাড়িঘর, উপাসনালয় ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে হামলা চালানো হচ্ছে। এই ধরনের সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা কোনওভাবেই বরদাস্ত করা যায় না।
তাঁর মতে, এই ধরনের নৃশংস ঘটনাগুলোকে অনেক সময় ‘ব্যক্তিগত শত্রুতা’ বা ‘রাজনৈতিক বিরোধ’ হিসেবে তকমা দিয়ে লঘু করে দেখানোর চেষ্টা করা হয়। ভারতের দাবি, এই ধরনের প্রবণতা অপরাধীদের আড়াল করে এবং তাঁদের আরও সাহসী করে তোলে। এর ফলে সাধারণ সংখ্যালঘুদের মধ্যে ভয় ও চরম নিরাপত্তাহীনতা কাজ করছে। ভারত চায়, বাংলাদেশ সরকার কোনও অজুহাত না দিয়ে অপরাধীদের বিরুদ্ধে দৃঢ় আইনি ব্যবস্থা নিক।
গত ডিসেম্বর মাস থেকে বাংলাদেশে হিন্দু নিধনের যে চিত্র সামনে এসেছে, তা শিউরে ওঠার মতো। ভারতের বিদেশমন্ত্রক যে ঘটনাগুলোকে গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখছে তার মধ্যে রয়েছে দীপু দাস হত্যাকাণ্ড, অমৃত মণ্ডল ও খোকন দাসের মৃত্যু। গত ১৮ ডিসেম্বর এক হিন্দু যুবক দীপু দাসকে মৌলবাদীরা নৃশংসভাবে পিটিয়ে হত্যা করে এবং পরে গাছে ঝুলিয়ে পুড়িয়ে দেয়। এই মধ্যযুগীয় বর্বরতার ঘটনায় শুরুতে পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার অভিযোগ উঠলেও পরে আন্তর্জাতিক চাপে ১২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত ২৪ ডিসেম্বর অমৃত মণ্ডলকে হত্যা করা হয়। বছরের শেষ দিন অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর দোকান বন্ধ করে ফেরার পথে আক্রান্ত হন ৫০ বছর বয়সী প্রৌঢ় খোকন চন্দ্র দাস। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন তাঁর মৃত্যু হয়।
নয়াদিল্লির এই কড়া বার্তা ভারত-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, তাতে সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিয়ে ভারতের এই অনড় অবস্থান মহম্মদ ইউনূসের প্রশাসনের ওপর আন্তর্জাতিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিল। এখন দেখার, দিল্লির এই বার্তার পর ওপার বাংলার সরকার মৌলবাদী শক্তি দমনে কতখানি কার্যকরী ভূমিকা পালন করে।




