International Special News Special Reports

অ্যাডিলেডে হাঁটু দিয়ে গলা চেপে পুলিশি অত্যাচার, মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা ভারতীয় বংশোদ্ভূত যুবকের

0
(0)

খবর লাইভ : জর্জ ফ্লয়েড হত্যাকাণ্ডের কথা মনে আছে? কৃষ্ণাঙ্গ যুবককে রাস্তায় ফেলে হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা চেপে ধরেছিলেন এক আমেরিকান পুলিশ। পরে সেই কৃষ্ণাঙ্গ যুবকের মৃত্যু হয়। এ বার অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেডে ভারতীয় বংশোদ্ভুত এক যুবকের সঙ্গে অনেকটা একই ধরনের ঘটনা ঘটল। পুলিশের অত্যাচারের অভিযোগ তুলেছেন যে ফলে ওই যুবক এখন গুরুতর আহত। লাইফ সাপোর্টে মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন তিনি। যুবকের নাম, গৌরব কুন্ডি।

জানা গিয়েছে, স্ত্রী অমৃতপাল কৌরের সঙ্গে অ্যাডিলেডের রাস্তা দিয়ে হাঁটছিলেন গৌরব। কোনও একটা বিষয় নিয়ে তর্কাতর্কি চলছিল ওই দম্পতির। রাস্তার উপরেই ঝগড়া শুরু হয় স্বামী-স্ত্রীর। কথা কাটাকাটি থেকে রীতিমতো চিৎকার চেঁচামেচি শুরু হয় দু’জনের মধ্য়ে। সেই দাম্পত্য কলহই সেই কাল হলো।

টহলরত পুলিশকর্মীরা ভাবেন, গার্হস্থ্য হিংসার কোনও ঘটনা ঘটেছে বোধহয়। স্বামী বোধহয় স্ত্রীকে ধরে পেটাচ্ছেন। সোজাসুজি গৌরবকে ধরে পুলিশ। অভিযোগ, গৌরবকে মাটিতে ফেলে হাঁটু দিয়ে তাঁর গলা আর ঘাড় চেপে ধরেন এক পুলিশকর্মী। হতচকিত হয়ে যান গৌরব। চিৎকার করে ওঠেন, ‘আমায় কেন ধরলেন? আমি কিছু করিনি।’ কিন্তু কে শোনে কার কথা! জানা গিয়েছে, সেই সময়েই মস্তিষ্কে আঘাত পান তিনি। জ্ঞান হারান সঙ্গে সঙ্গেই।

অ্যাডিলেড পুলিশের যদিও দাবি, গৌরব প্রবল ভাবে কর্তব্য়রত পুলিশকর্মীকে বাধা দিয়েছিলেন। তখন আচমকাই তিনি মাটিতে পড়ে যান এবং জ্ঞান হারান। গোটা ঘটনার ভিডিয়ো করেছেন গৌরবের স্ত্রী। তাতে দেখা যাচ্ছে, কয়েকজন পুলিশকর্মী গৌরবকে একটি গাড়ির পাশে চেপে ধরেছেন, আর গৌরব চেঁচাচ্ছেন। আর তাঁর স্ত্রী অসহায়ের মতো বলে চলেছেন, ‘প্লিজ়, আমার স্বামীকে ছেড়ে দিন। ও কিছু করেনি।’ অমৃতপাল সংবাদমাধ্য়মকে জানিয়েছেন, গৌরব তখন মদ্যপ অবস্থায় ছিলেন। জোরে জোরে কথা বলছিলেন। তবে এর বেশি গৌরব আর কিছু করেননি বলেই দাবি অমৃতপালের।

গৌরবকে রয়্যাল অ্যাডিলেড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। মস্তিষ্কে গুরুতর আঘাত লেগেছে তাঁর। চিকিৎকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথা এবং ঘাড়ের স্নায়ুতে গুরুতর চোট লেগেছে। স্ত্রী অমৃতপাল কাঁদতে কাঁদতে বলেছেন, ‘ওর আর জ্ঞান ফিরবে কি না, জানি না।’

ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার পুলিশ। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বডি ক্যামেরা ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দক্ষিণ অস্ট্রেলিয়ার অ্যাক্টিং অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার জন ডেকান্ডিয়া বলেন, ‘বডি ফুটেজ ক্যামেরায় যে প্রমাণ মিলেছে, তাতে আমি সন্তুষ্ট। তবে তদন্ত চলছে। তারপরই পুরো ঘটনাটা জানা যাবে।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *