National Special News Special Reports

গুরুগ্রাম থেকে তরুণীকে গ্রেফতারে রাজ্যের কাছে কেস ডায়েরি তলব হাইকোর্টের

0
(0)

খবর লাইভ : অপারেশন সিঁদুর নিয়ে এক তরুণী আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় ওই তরুণী একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিয়ো দেখে কলকাতার একটি থানায় তরুণীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। <span;>শুক্রবার রাতে গুরুগ্রাম থেকে আইনের ছাত্রী শর্মিষ্ঠা পানোলিকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ।

গুরুগ্রাম থেকে তরুণীকে গ্রেফতারের ঘটনায় রাজ্যের কাছে কেস ডায়েরি তলব করল কলকাতা হাই কোর্ট। তরুণীর বিরুদ্ধে রাজ্যের অন্য থানায় দায়ের হওয়া মামলার তদন্ত আপাতত স্থগিত থাকবে। তাঁর বিরুদ্ধে নতুন করে আর কোনও মামলা দায়ের করা যাবে না। রাজ্য সরকারকে এই বিষয়টি নিশ্চিত করার জন্য বলেছেন বিচারপতি। সঙ্গে আদালত এ-ও জানিয়েছে, বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার থাকলেও কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা যায় না। আগামী ৫ জুন এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে।

পুলিশ সূত্রের খবর, পুনের আইনের ছাত্রী পানোলি ইনস্টাগ্রামে অপারেশন সিঁদুর নিয়ে একটি ভিডিয়ো পোস্ট করেছিলেন। সেই ভিডিয়োয় তিনি বিশেষ এক ধর্মীয় সম্প্রদায়ের লোকজনকে নিশানা করে অবমাননাকর মন্তব্য করেন বলে অভিযোগ। যদিও সেই ভিডিও সত্যতা যাচাই করেনি খবর লাইভ।

পুলিশ জানিয়েছে, পানোলি এবং তাঁর পরিবারের লোকজন পলাতক ছিলেন। বারবার আইনি নোটিস পাঠিয়েও লাভ হয়নি। সেই কারণে আদালত তরুণীর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এক পুলিশ কর্তা বলেন, ‘মামলাটি শর্মিষ্ঠা পানোলি নামে এক মহিলার একটি ইনস্টাগ্রাম ভিডিয়োর সঙ্গে সম্পর্কিত। তাঁর বিরুদ্ধে বিশেষ সম্প্রদায়ের লোকজনের ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অভিযোগ উঠেছে।’

এই ঘটনায় কলকাতার গার্ডেনরিচ থানায় দায়ের হওয়া মামলার কেস ডায়েরি জমা দিতে বলেছে আদালত। বিচারপতি জানিয়েছেন, পরবর্তী শুনানির দিন ওই কেস ডায়েরি আদালতে জমা করতে হবে রাজ্যকে।

গত ১৫ মে কলকাতার একটি থানায় মামলা দায়ের হয়েছিল তরুণীর বিরুদ্ধে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর পরবর্তী সময়ের ওই পোস্টটির কারণে সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানোর আশঙ্কা করছিল পুলিশ। সেই মতো ভারতীয় ন্যায় সংহিতার নির্দিষ্ট ধারায় এফআইআর রুজু করা হয়। এর পাশাপাশি শান্তিভঙ্গের চেষ্টা, ইচ্ছাকৃত ভাবে কারও ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত এবং উস্কানিমূলক বিবৃতির অভিযোগেও মামলা রুজু হয় পুণের ওই আইনের ছাত্রীর বিরুদ্ধে।

অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি, তাঁর মক্কেলের গ্রেফতারি বেআইনি। তাঁর প্রশ্ন, “আইন মেনে কি গ্রেফতার করা হয়েছে? আমার মক্কেল কি সন্ত্রাসবাদী? একজন পড়ুয়াকে কি এ ভাবে গ্রেফতার করা যায়?” এই ঘটনায় হাই কোর্ট হস্তক্ষেপ করে যাতে তরুণীর জামিনে মুক্তির ব্যবস্থা করে, সেই আর্জিও জানান তিনি। ওই আইনজীবী দাবি করেন, এফআইআর দায়েরের পরে কোনও নোটিস ছাড়াই দু’দিনের মধ্যে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। পুলিশের গ্রেফতারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন রয়েছে।

হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ছাত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, তাঁর পোস্ট দেশের একটি অংশের মানুষের ভাবাবেগে আঘাত করেছে। বাক্‌স্বাধীনতার অধিকার রয়েছে। কিন্তু কোনও সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে মন্তব্য করা যায় না।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *