খবর লাইভ : চলতি বছরের ১ জুন, ইউক্রেন রাশিয়ার অভ্যন্তরে এক ঐতিহাসিক ড্রোন হামলা চালিয়েছে, যা রাশিয়ার সামরিক বিমানবাহিনীর জন্য এক বড় ধরনের ধাক্কা। অপারেশনটির নাম দেওয়া হয়েছে ‘স্পাইডারওয়েব’। এই অভিযানে ১১৭টি ড্রোন ব্যবহার করে রাশিয়ার চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিমানঘাঁটিতে আক্রমণ চালানো হয়, যার মধ্যে রয়েছে ওলেনিয়া, বেলায়া, ইভানোভো ও দিয়াগিলেভো। এই হামলায় ৪০টিরও বেশি রুশ সামরিক বিমান ধ্বংস হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে টিইউ-৯৫, টিইউ-২২ এবং আধুনিক A-50 AWACS বিমান। এই হামলার ফলে রাশিয়ার সামরিক শক্তিতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার।
ইউক্রেনের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সংস্থা (এসবিইউ) এই অভিযানের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করেছে। অভিযানের জন্য ড্রোনগুলো রাশিয়ার অভ্যন্তরে ট্রাকের মাধ্যমে পরিবহন করা হয়, এবং সেখান থেকে বিমানঘাঁটির কাছে গিয়ে ড্রোনগুলো চালু করা হয়। এই কৌশল রাশিয়ার নজর এড়িয়ে সফলভাবে হামলা চালাতে সক্ষম হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই হামলাকে একটি ‘অসাধারণ’ অভিযান হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এই হামলা রাশিয়ার জন্য ‘ন্যায্য’ এবং ‘প্রাপ্য’। এই হামলার মাধ্যমে ইউক্রেন তার সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছে।
এই হামলার পর রাশিয়া ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে, এবং এটি রাশিয়ার সামরিক পরিকল্পনা ও মনোবলকে চ্যালেঞ্জ করেছে। ইউক্রেনের এই কৌশলগত সফলতা আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার সামরিক শক্তির প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এই হামলার পরপরই রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালিয়েছে, যাতে ১২ জন নিহত ও ৬০ জন আহত হয়েছে। এই পাল্টা হামলা যুদ্ধের তীব্রতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এই অভিযানের মাধ্যমে ইউক্রেন তার সামরিক সক্ষমতা ও কৌশলগত দক্ষতা প্রদর্শন করেছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে রাশিয়ার সামরিক শক্তির প্রতি সন্দেহের সৃষ্টি করেছে।
এই হামলা যুদ্ধের নতুন মোড় নিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলেছে। গোটা বিশ্ব এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে শান্তি আলোচনা ও কূটনৈতিক উদ্যোগের দিকে মনোযোগ দিচ্ছে।




