State

সিঙ্গুরে শিল্পের স্বপ্ন ফেরি অমিত শাহের, স্পিক টি নট ন্যানো প্রসঙ্গ নিয়ে

5
(1)

খবর লাইভ : তৃণমূলের রাজনৈতিক উত্তরণের অন্যতম ভিত্তিভূমি তথা জমি আন্দোলনের আঁতুরঘর সিঙ্গুরে গত লোকসভা ভোটে উলটপুরাণ ঘটেছিল। রাজ্যের শাসকদলের প্রার্থীকে পিছনে ফেলে লিড নিয়েছিলেন পদ্ম শিবিরের প্রার্থী। গত ১৫ বছর ধরে সিঙ্গুরের যিনি বিধায়ক ছিলেন সেই রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য দলীয় টিকিট না পেয়ে, রাজনৈতিক ডিগবাজি খেয়ে এবারের বিধানসভা ভোটে বিজেপির প্রার্থী হয়ে ভোট ময়দানে। বুধবার তাঁর সমর্থনে সিঙ্গুরে রোড শোয়ে শিল্পের স্বপ্ন ফেরি করলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রতিশ্রুতি দিলেন, ‘রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সিঙ্গুরকে ছোট-ক্ষুদ্র-মাঝারি থেকে বড় শিল্প দিয়ে মুড়ে দেবেন।’ তবে একসময়ে যে সংস্থার মোটরগাড়ির কারখানাকে গড়াকে কেন্দ্র করে জমি আন্দোলনকে ঘিরে অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠেছিল সিঙ্গুর সেই টাটা’র ন্যানো কারখানা নিজের খাসতালুক গুজরাতের সানন্দ থেকে ফের বঙ্গের মাটিতে আনার বিষয়ে টুঁ শব্দটি করেননি তিনি।
সিঙ্গুরে ‘দলবদলু’ রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে প্রার্থী করার পরেই বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলেন স্থানীয় বিজেপি নেতা-কর্মীরা। তলে-তলে এখনও তাঁরা ‘দলবদলু’ বিধায়ককে উচিত শিক্ষা দেওয়ার জন্য ফুঁসছেন। ফলে কিছুটা বিড়ম্বনায় পড়েছে পদ্ম শিবিরের শীর্ষ নেতৃত্ব। দল যে তাঁর পাশে রয়েছে সেই বার্তা দিতেই এদিন রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্যকে পাশে নিয়ে সিঙ্গুরে রোড শো করেন আমিত শাহ। আর সেই রোড শোয়ের ফাঁকেই যেমন সিঙ্গুরে ফের শিল্প ফিরিয়ে আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, তেমনই তৃণমুল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও বিঁধেছেন।
কী বলেছেন শাহ? তৃণমূল সুপ্রিমোকে নিশানা করে বলেছেন, ‘সিঙ্গুরে জমি আন্দোলন করে নিজের রাজনৈতিক ফায়দা লুঠেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু ক্ষমতায় আসার পরে গত ১০ বছরে এখানে কোনও কাজ করেননি। কোনও শিল্প আনতে পারেননি। বেকারদের কর্মসংস্থানের বিকল্প ব্যবস্থা করতে পারেননি। সিঙ্গুর হোক বা জঙ্গলমহল অথবা উত্তরবঙ্গ, সব জায়গার মানুষ এই নিষ্কর্মা তৃণমূল সরকারকে দূর করতে চায়।’
বঙ্গে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরেই সিঙ্গুরে ফের শিল্পের জোয়ার বইবে বলে প্রতিশ্রুতি দিয়ে অমিত শাহ বলেছেন, ‘শুধু ছোট বা মাঝারি নয়, রাজ্যে বড় শিল্প আনবে বিজেপি। শিল্প ফিরবে সিঙ্গুরেও। আমরা নির্বাচনী ইস্তাহারে পশ্চিমবঙ্গের ভারী, মাঝারি, ক্ষুদ্র এবং কুটির শিল্পের বিষয়ে সুনির্দিষ্ট রূপরেখা তৈরির কথা জানিয়েছি। তারই ভিত্তিতে কর্মসংস্থান সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান হবে।’
রাজ্যে তৃণমূল সরকারের চলে যাওয়া শুধু সময়ের অপেক্ষা হিসেবে দাবি করে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলার মানুষ যে এখন উন্নয়ন চান তা আজকের জনসমাগম থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে। তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যে সব কথা বলেছেন, তা ওঁর হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এই হতাশাই বলে দিচ্ছে বিজেপি জিততে চলেছে এবং তৃণমূলের হার শুধু সময়ের অপেক্ষা।’
ইতিমধ্যেই বাংলায় তিন দফায় ৯১টি বিধানসভা আসনের নির্বাচন সম্পন্ন হয়েছে। তিন দফায় ৯১ আসনের মধ্যে ৬৩ থেকে ৬৮ আসন বিজেপি পাবে বলে ফের দাবি করেছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। সেই সঙ্গে ফের অমিত-বিক্রমে হুঙ্কার ছেড়েছেন, ‘২০০’র বেশি আসনে জিতেই দল ক্ষমতায় আসবে।’
এদিন সিঙ্গুরের পরে হাওড়ার ডোমজুড়েও আর এক ‘দলবদলু’ রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের হয়ে রোড শো করেন অমিত শাহ। ওই রোড শো শেষে চামরাইলে দলের এক কর্মীর বাড়িতে মধ্যাহ্নভোজন সারেন। সেই মধ্যাহ্নভোজনের সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ‘বাংলায় দল ক্ষমতায় এলে কে মুখ্যমন্ত্রী হবেন, তা এখনও ঠিক হয়নি।’

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *