খবর লাইভ : বিধানসভা ভোটের আগে নতুন করে ৭২ হাজার কোটি টাকার নয়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার বিধানসভায় এই নয়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বিধানসভায় দাঁড়িয়ে মোট ১৯টি শিল্প প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেগুলির উদ্বোধন হবে আগামী দু-দিনের মধ্যে। এর মধ্যে রয়েছে কলকাতার লেদার কমপ্লেক্সের কমন ইফ্লুয়েন্ট প্ল্যান্ট। এই প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে ওই এলাকায় কম বেশি ১৮টি ট্যানারি গড়ে উঠবে বলে জানান মমতা। হাওড়ায় হবে মেগা পাওয়ারলুম ক্লাস্টার। সেখানে বিনিয়োগ হবে প্রায় ৪০০ কোটি টাকা। হাওড়ার উদয়নারায়ণপুর হবে তাঁতের হাট, জগদীশপুরে হোসিয়ারি পার্ক ও উনসানিতে টেক্সটাইল ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হবে।
উত্তরবঙ্গের জন্যও একগুচ্ছ নয়া প্রকল্পের কথা ঘোষণা করেন মুখ্যমন্ত্রী। কোচবিহারে ভাওয়াইয়া শিল্পীদের জন্য হবে কমন ফেসিলিটি সেন্টার, মেখলা পোশাক তৈরির কারখানা, মালদহে সিল্ক পার্ক, শিলিগুড়িতে ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড লজিস্টিক পার্ক, বালুরঘাটে ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক ও বিন্নাগুড়িতে হবে শিল্পাঙ্গন পার্ক।
এদিন মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন, পুরুলিয়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল টাউনশিপ হবে। বজবজ ও বাঁকুড়ায় ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক হবে। পূর্ব বর্ধমানে বাতাসা ও কদমা তৈরির কারখানা হবে।
গত লোকসভা নির্বাচনে উত্তরবঙ্গে একটিও আসন পায়নি তৃণমূল। এই পরিস্থিতিতে উত্তরবঙ্গের একাধিক জায়গায় শিল্প ঘোষণা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
এদিন কৃষকদের নিয়ে মোদির বক্তব্যেরও কটাক্ষ করেন মুখ্যমন্ত্রী। এদিন তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, রাজ্যে কৃষকদের নিয়ে মিথ্যাচার করছেন প্রধানমন্ত্রী। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘নরেন্দ্র মোদি বলছেন, আমরা কৃষকদের তালিকা দিচ্ছি না। ওরা যে ৬ হাজার টাকা দেয়, সে তো একরে। আমরা এক কাঠা থাকলেও দিই। আমরা চেয়েছিলাম, সার্ভে হোক। বারবার কেন্দ্রকে বলছি তথ্য দাও। এতদিন পর তথ্য দিল। তাও আবার ওদের পোর্টালে দিয়েছে। বলছে ২২ লাখ রেজিস্টার করেছে। আমাদের এখন বলছে ভেলিফাই করে দিতে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত আমাদের মাত্র ৬ লাখের তথ্য দিয়েছে। আমরা তার মধ্যে আড়াই লাখ করে দিয়েছি। দাও তোমরা টাকা।’ এদিন মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ‘এই সরকার এলে বাংলার কৃষকদের কথা ভাবাই না। রাজ্যের প্রাপ্য কিছুই দিচ্ছে না।’



