Special News Special Reports State

পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা, বিএলও প্রশিক্ষণে গুরুত্ব নির্বাচন কমিশনের

0
(0)

খবর লাইভ : বিধানসভা ভোটের আর মাত্র এক বছরও বাকি নেই। রাজনৈতিক দলগুলোর ভোট-প্রচারের তোড়জোড়ের মাঝেই সক্রিয় ভূমিকা নিতে শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। ইতিমধ্যেই রাজ্যের বিভিন্ন ডিভিশনে ‘বুথ লেভেল অফিসার’দের প্রশিক্ষণ দেওয়া শুরু হয়েছে। প্রশিক্ষণে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ভোটার তালিকায় ‘বিশেষ নিবিড় সমীক্ষা’ বা এসআইআর প্রক্রিয়ার উপর।

কমিশনের তরফে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, বিএলও-দের কাজ হবে পুরোপুরি নিরপেক্ষ এবং কমিশনের নির্দেশ মেনে। নির্দেশিকায় উল্লেখ রয়েছে, দায়িত্বে গাফিলতি বা পক্ষপাত প্রমাণিত হলে শাস্তির মুখে পড়তে হবে, জেল অথবা জরিমানাও হতে পারে।

এই প্রসঙ্গেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সোমবার বীরভূমের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে বিএলও-দের উদ্দেশ্যে বলেন, ভোটার তালিকা থেকে যেন কোনও নাগরিকের নাম বাদ না পড়ে, তা নিশ্চিত করুন। আপনারা রাজ্য সরকারের কর্মচারী। ভোটের সময় মানুষের হেনস্থা যেন না হয়।

তবে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কমিশন জানায়নি, ঠিক কবে থেকে রাজ্যে শুরু হবে এই নিবিড় সমীক্ষা। তবে প্রশিক্ষণের ধরন এবং বিশদ নির্দেশনা দেখে প্রশাসনিক মহলের একাংশ মনে করছেন, খুব শীঘ্রই এই প্রক্রিয়া শুরু হতে চলেছে।

কী রয়েছে বিএলও প্রশিক্ষণে?

কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী, বিএলও-দের ঘরে ঘরে গিয়ে ভোটার সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। প্রতিটি বাড়িতে পৌঁছে এসআইআর ফর্ম দেওয়া এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা সংগ্রহ করে কমিশনে জমা দেওয়ার নির্দেশ রয়েছে।

যদি কোনও বাড়ি তালাবদ্ধ থাকে, সে ক্ষেত্রেও স্পষ্ট নিয়ম দেওয়া হয়েছে। ফর্ম রেখে আসা, পরিবারের ফোন নম্বর সংগ্রহ এবং পরে সময় নিয়ে আবার গিয়ে বুঝিয়ে ফর্ম পূরণ করানো বিএলও-দের দায়িত্ব।

কমিশন আরও জানিয়েছে, একাধিকবার গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করতে হবে যেন কেউ তালিকা থেকে বাদ না যায়। যারা ভাড়ায় থাকেন, তাদের তথ্যও পূর্ণাঙ্গভাবে দিতে হবে।

নথির প্রয়োজনীয়তা ও প্রযুক্তির ব্যবহার

বিহারের উদাহরণ টেনে কমিশন বলেছে, সেখানে এসআইআর চালু করতে গিয়ে এনআরসি বা পারিবারিক রেজিস্টারের মতো নথির প্রসঙ্গ ওঠে, যা বিতর্কের জন্ম দেয়। তবে পশ্চিমবঙ্গে এখনও নির্দিষ্ট করে কোনও নথির তালিকা ঘোষণা করা হয়নি। বিএলও-দের বলা হয়েছে, বিভিন্ন ধরনের নথির মধ্যে যে কোনও একটি দিলেই ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

ডিজিটাল পদ্ধতিতেও জোর দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি বিএলওকে ‘বিএলও অ্যাপ’ ব্যবহার করে তথ্য জমা দিতে হবে। ভোটার কার্ডের সঙ্গে আধার সংযুক্ত না থাকলে, সেই সংযোগের ফর্মও অ্যাপ থেকেই পূরণ করা যাবে।

ভোটার তালিকা অনুযায়ী নজরি ম্যাপ

গ্রামীণ এলাকায় যেখানে বাড়ির নির্দিষ্ট নম্বর নেই, সেখানে বিএলও-দের বাড়ির সংখ্যা অনুযায়ী ‘নজরি ম্যাপ’ তৈরি করতে হবে। প্রতিটি বুথ আলাদাভাবে চিহ্নিত করে তথ্য নথিভুক্ত করতে হবে।

২০০২ সালে পশ্চিমবঙ্গে শেষ বার এসআইআর চালু হয়েছিল। এবার সেই অভিজ্ঞতার আলোকে আধুনিক প্রযুক্তি এবং কড়াভাবে প্রশিক্ষিত বিএলও-দের কাজে লাগিয়ে ভোটার তালিকা আরও নির্ভুল ও স্বচ্ছ করার পরিকল্পনায় নির্বাচন কমিশন।

How useful was this post?

Click on a star to rate it!

As you found this post useful...

Follow us on social media!

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *